বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে দ্বিতীয় দফায় দ্বিতীয় পর্যায়ে উচ্ছেদ অভিযানে ১৪টি বহুতল ভবনসহ ৫৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোহাম্মদপুর এলাকার মমিন হোসেনের ঢাকা উদ্যান হাউজিংয়ে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বিআইডাব্লিউটিএ। আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার আরো শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানা যায়।
ঢাকা নৌ বন্দর যুগ্ম-পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, মমিন আমিন হাউজিং, বসিলা হাউজিং, চন্দ্রিমা হাউজিং, ঢাকা হাউজিং ও মধুসিটিসহ হাউজিং কোম্পানিগুলো রাতের আঁধারে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর তীরে বিআইডাব্লিউটিএর নদীর সীমানা পিলারগুলো সরিয়ে নদী দখল ও ভরাট করে এসব অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। আরিফ উদ্দিন আরো বলেন, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর অবৈধ সকল স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। গতকাল মোহাম্মদপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের দ্বিতীয় পর্যায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। আজ ও আগামীকাল আরো শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
বন্দর পরিচালক শফিকুল হক বলেন, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর সীমানা পিলার থেকে ১৫০ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কোনো স্থাপনা তৈরি করতে পারবে না কিন্তু এ আইন চালু থাকা সত্ত্বেও হাউজিং কোম্পানিগুলো বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর প্রবাহ গতিপথ বন্ধ করে শত শত অবৈধ পাকা স্থাপনা তৈরি করে নদীকে গলা টিপে হত্যা করছে। তিনি আরো বলেন, যতদিন পর্যন্ত উচ্ছেদে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী দখল মুক্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলমান রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এ উচ্ছেদ অভিযানকে এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছে।
বিআইডাব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিআইডাব্লিউটিএর নদী রক্ষা আইন রয়েছে। যে কোনো নদীর পার থেকে ১৫০ ফুট এর মধ্যে কোনো মালিকানা জমিতেও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু এসব হাউজিং কোম্পানি কোনো আইন না মেনে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী দখল করে শত শত বহুতল ভবন তৈরি করেছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের নদী রক্ষা অভিযানে অনিয়ম ভঙ্গকারী হাউজিংগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।