দালালের খপ্পরে পড়ে মিয়ানমার কারাগারে আটক স্বামী

জয়পুরহাটে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় দুই নারী রেহেনা ও কারিমা

সংসারে সুখ ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে অনেক আশা নিয়ে নিজের শেষ সম্পদ বিক্রি করে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ১০ মাস আগে বিদেশে পাড়ি জমান বাবলু ও আনিসুর ইসলাম ।
সংসারে সুখতো দূরে থাক দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও স্বামীকে ফিরে পাননি বাবলু ও এবং আনিসুরের স্ত্রী রেহেনা পারভীন ও কারিমা বিবি। বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর অবস্থায় দিন যাপন করছেন তারা। দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দুই অসহায় নারী। অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন দুজনেই।
রেডক্রসের মাধ্যমে জয়পুরহাট রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির নিকট চিঠি এসেছে তারা মিয়ানমারের কারাগারে আটক রয়েছেন।
জয়পুরহাট রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারী গোলাম হক্কানী জানান, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আর্ন্তজাতিক রেডক্রস সোসাইটি মিয়ানমারের রাখাইন কারাগারে আটক বাবলু, আনিসুর ইসলাম ও জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। আর্ন্তজাতিক রেডক্রস সোসাইটির দেয়া তথ্যে জানা যায়, রাখাইন স্ট্রেট, সিট্টিউ প্রিজনে থাকা বাবলুর জেল নং বিডি-১৫/০০২২৭/সি, রুম নং ডব্লিউ/১/আর-৪। আনিসুরের জেল নং বিডি-১৫/০০২১৯/সি, রুম নং ডব্লিউ/১/আর-৪ এবং জাহিদুলের জেল নং বিডি-২০১৫/০০২১৫, রুম নং ডব্লিউ/৩/আর-২। তাদের লেখা চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি জয়পুরহাট সোসাইটিকে জানায়  গত বৃহষ্পতিবার।
এ খবর পেয়ে ছুটে আসেন দুজনেই। রেহেনার স্বামী বাবলু (৪০) আক্কেলপুর উপজেলার পুর্ণগোপিনাথপুর গ্রামের আফতাবের ছেলে এবং কারিমার স্বামী আনিসুর ইসলাম (৩৮) একই উপজেলার বারইল গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে। এদের সঙ্গে রয়েছে জাহিদুল (২২) নামে আরেকজন সে ক্ষেতলাল উপজেলার দেওগ্রামের দেলোয়ারের ছেলে। রেহেনা ও কারিমা জানান, ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল স্থানীয় দালালের খপ্পরে পড়ে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার চুক্তিতে  একই সঙ্গে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্যেশে বাড়ি থেকে বের হয়। আনিসুর ভ্যানচালক ছিল। বিদেশ যাওয়ার জন্য আনিসুর শ্বাশুড়ীর  নিকট থেকে ভাগে পাওয়া ৫ শতাংশ জমি বিক্রি করে এবং বাবলু নিজের ১০ কাঠা জমি বন্ধকী রাখে আর ৫ কাঠা বিক্রি করে। রেহেনা পারভীনের একমাত্র ছেলে রাকিবুল হাসান এবার এস এস সি পরিক্ষার্থী । সে ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেলের লেখা পড়া বা সংসারে খরচ চালানোর মতো কিছুই নেই সংসারে। কারিমার ২ মেয়ে এক ছেলে। সম্পদ বলতে কিছুই নেই ফলে স্বামীকে ফিরিয়ে আনবেন কিভাবে তা ভেবে কোন উপায় করতে পারছেন না। বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক দুজনকেই ২০০০ টাকা করে দিয়েছেন বলে জানান। এ অবস্থায় সরকারের আশু সহযোগিতা কামানা করেছেন রেহেনা , কারিমা ও জাহিদুলের পিতা দেলোয়ার। অভিযুক্ত স্থানীয় দালাল বাহাজ্জুল ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা ।