ইত্তেফাক ডেস্ক
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৫৭ জন আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে মার্কিন বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং। রবিবারের দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন লেখক, ফুটবল কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের ২১ কর্মী ছিলেন। এর জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইউরোপের কয়েকটি দেশসহ বিশ্বের অন্তত ১৮ টি দেশে বোয়িং বিমানের ওঠা-নামা নিষিদ্ধ হয়েছে। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা’র
যেসব দেশে নিষিদ্ধ
বোয়িং বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইথিওপিয়া, চীন, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, মঙ্গোলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নরওয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং আর্জেন্টিনার বিভিন্ন বিমান সংস্থা বোয়িংকে নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া কেমান আইল্যান্ডের বিমান সংস্থাও বোয়িংকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটেনের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ (সিএএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, বিধ্বস্ত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার থেকে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি। ফলে আপাতত ব্রিটেনের আকাশ সীমায় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স নিষিদ্ধ থাকবে। ব্রিটেনের বিমান চালকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বোয়িংয়ের সফল ৭৩৭ বিমানের সর্বশেষ মডেলটি হচ্ছে ম্যাক্স (৭, ৮,৯ এবং ১০)। গত জানুয়ারি পর্যন্ত বোয়িং বিভিন্ন ধরনের ৫ হাজার ১১ টি ম্যাক্স বিমানের অর্ডার পেয়েছে। এখন পর্যন্ত সরবরাহ করেছে ৩৫০টি। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ মডেল। বোয়িংয়ের কাছ থেকে এরকম ৩০টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে ইথিওপিয়ার বিমান সংস্থা। গত অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের যে বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছিল সেটিও ছিল ৭৩৭ ম্যাক্স। পাঁচ মাসের মধ্যে এই মডেলের আরো একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, বোয়িংয়ের এই মডেল নিরাপদ নয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।