শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠী

গাইবান্ধায় তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হিমেল হাওয়ার সঙ্গে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। গরম কাপড়ের অভাবে দুর্ভোগ বেড়েছে গরিব মানুষের। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষ।
 
তীব্র শীতে রবিবারও দিনমজুরেরা ফসলের মাঠে কাজে যেতে পারেননি। শহরে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হননি। বেড়েছে শীতজনিত রোগবালাই।
 
রবিবার গাইবান্ধা সদর ও সাদুল্লাপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের বাড়ির উঠোনে দরিদ্র পরিবারগুলো আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন। কেউ কেউ চুলোর আগুনে তাপ নিচ্ছেন।
 
সাদুল্লাপুর উপজেলার হবিবুল্লাপুর গ্রামের সুফিয়া বেগম (৪৮) নিজের ভাষায় বললেন, ‘না খায়া থাকা যায় বাহে, কিন্তু জারের (শীতের) কসটোত হামরা ঘুমব্যার পাইনে। একনা শিতের কাপড়ার জন্নে মেম্বরের (ইউপি সদস্য) বাড়িত গেচুনো, তামরা কয় চেয়ারম্যানের কাচে যাও।
 
তিনি আরো বলেন, ‘এবাড়িত ওবাড়িত কাম করি সোংসার চলাই। আচকে (রবিবার) জারের জন্নে কামোত যাবার পাই নাই।’
 
জেলা সদরের ত্রিমোহিনী গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আকলিমা বেগম (৩৮) নিজের ভাষায় বললেন, ‘মুই হাটপের পামনা। হুইল চেরোত ভিক্কে করোম। ম্যালা জাগাত শিতের কাপরা দ্যায়, মুই সেজাগাত যাব্যার পামনা। তাঈ মোর কপালোত শিতের কাপরা জোটেনা।’
 
একই গ্রামের লাভলু মিয়া (৪২) বললেন, ‘একমাস থাকি শিতোত মরব্যার নাগচি। কাউয়ো হামাক শিতের কাপড়া দিলো না।’ তিনি আরো বলেন, ‘পোত্তেকদিন কামলার কাম করি ২০০ ট্যাকা পাই। তাক দিয়া কোনোমতো সোংসার চলে। আচকে (রবিবার) ঠান্ডার জন্নে কামোত যাবার পানো না। আইতোত কি দিয়া বাজার করমো, বুদ্দি নাই।’
 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে ৩১ হাজার ৫৭০ পিস কম্বল জেলার সাত উপজেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেগুলোর বিতরণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া আরো ১০ হাজার কম্বল চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন হয়েছে। কিন্তু রবিবার পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।’
 
অপরদিকে শীতজনিত রোগ সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। শিশুরাই ডায়েরিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
 
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, ‘গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে দৈনিক গড়ে ২০ থেকে ২২ জন ভর্তি হচ্ছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।’
 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।