শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে লেগেছে তার নান্দনিক ছোঁয়া। পড়েছে সাজ সাজ রব। পাখির কলোতানে মুখরিত ভোলার দক্ষিণ আইচা থানার তারুয়া দ্বীপ। ভোলা ব-দ্বীপের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ঢালচর, কুকরি-মুকরি ও পর্যটন কেন্দ্র তারুয়া বিচে পাখিদের হাট বসেছে। বিচিত্র পাখ-পাখালির মধুময় কলোতানে মুখরিত হয়ে উঠেছে এখানকার জনপদ। বছর জুড়ে তারুয়ায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে হরেক রকম পাখির কলোকাকলীতে সরব হয়ে ওঠা শীতের সময়টা যেন নতুন রূপ লাভ করে। আবার এদের সঙ্গে যোগ হয়েছে সাইব্রেরিয়াসহ পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দল। ইতোমধ্যে হাজারও প্রকৃতি প্রেমীকে আকৃষ্ট করেছে তারুয়া বিচের বিচিত্র বর্ণিল পাখিরা। এছাড়াও কুকরি মুকরি, কালির টেক, বালুরধুম কালির চর, চর সিরাজ বিছিন্ন দ্বীপ সমূহে শীতের পাখির সমারোহ। হাজারো প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকদের ইতোমধ্যে আকৃষ্ট করছে পর্যটন কেন্দ্ররূপী তারুয়া বিচ।
চরফ্যাসন উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্বে দক্ষিণ আইচা থানার ঢালচর ইউনিয়ন। বঙ্গোপসাগর ঘেষে ঢালচর থেকে পূর্ব দিকে চর শাহজালাল ও চর আশরাফের মাঝা মাঝি বিছিন্ন তারুয়া বিচ। জনমানবহীন গহীন অরণ্যাবৃত তারুয়ার বিচ যেন পাখিদের এক সবুজ অভয়ারণ্য।
তারুয়া নির্জন বনাঞ্চলকে জলদুস্যরা নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। ফলে পর্যটকরা বরাবরই এ অঞ্চলটিকে এড়িয়ে চলেন। এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হলেও কোন উন্নতি হয়নি। ফলে সর্বদাই একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পর্যটন পিপাসু বিভিন্ন মিডিয়ায় তারুয়া বিচ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর অপূরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি তারুয়া বিচে গত কয়েক বছর থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে। চরফ্যাসনে তারুয়া দ্বীপে এই শীতে বিচরণ করছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। পাখির বিচরণ ক্ষেত্রেও কলতানে মুখর তারুয়া বিচ। দক্ষিণ আইচার চর কচ্ছপিয়া থেকে বিভিন্ন ধরনের নৌকায় বা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বা স্পিড বোটে সহজে যাওয়া যায় তারুয়া দ্বীপে। নদী পথে যাওয়ার প্রাক্কালে তারুয়া বালুরধুম অভিমুখে নদীর স্বচ্ছ পানিতে নীলাকাশ থইথই করছে। আর চারদিকে দেখা যায় সারি সারি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক দৃশ্য।
ঢালচরের ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় তারুয়া নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর শীতের এই মৌসুমে তারুয়ায় হাজার হাজার পর্যটকদের সমাগম শুরু হয়েছে। সরকার পর্যটন কর্পোরেশনের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন তারুয়া দ্বীপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, বিভিন্ন আবাসিক সুবিধা, পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করলে আরও পর্যটকদের সমাগম ঘটবে।