রাজশাহীতে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম এবং মেধাক্রম অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিবাবকের অভিযোগ, ‘সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাও পছন্দের স্কুলে ভর্তির সুযোগ পায়নি।’
তারা বলেন, ‘মেধাক্রম উপেক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বিস্ময় প্রকাশ করলেও কেউ দায়-দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভর্তি কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এবং ফল প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট টেলিটক এ অভিযোগের দায় এড়াতে পারে না।’
জানা গেছে, রাজশাহীর সরকারি ল্যাবরেটরি, সরকারি কলেজিয়েট, সরকারি শিরোইল, সরকারি মাদরাসা, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় (হেলেনাবাদ) ও সরকারি পিএন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে ৫৯৫ আসনের বিপরীতে তিনি হাজার ছয় শ ৪৩ শিক্ষার্থী এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ৩৪০ টি শূন্য আসনের বিপরীতে দুই হাজার আট শ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। ১৯ ডিসেম্বর তৃতীয় এবং ২১ ডিসেম্বর ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর পরীক্ষকরা খাতা দেখে কোড ও প্রাপ্ত নম্বর ভর্তি কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেন। এরপর সেগুলো মাউশি ও টেলিটকে কাছে পাঠানো হয়। টেলিটক ২২ ডিসেম্বর ফল প্রকাশ করে ভর্তি কমিটির সদস্যদের ই-মেইলে পাঠায়।
আরো জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির সিদ্ধান্তে দেশের সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রক্রিয়াকরণের কাজ টেলিটক অভিন্ন নীতিমালা ও সফটওয়্যারে সম্পন্ন করে। কিন্তু রাজশাহীর ছয়টি সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য পৃথক সফটওয়্যার তৈরি করে টেলিটক। ভর্তি কমিটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী টেলিটককে ভতিচ্ছু শিক্ষার্থীর মেধাক্রম ও পছন্দক্রমের প্রতিষ্ঠান সমন্বয় করে ফল প্রকাশের নির্দেশনা ও গাইডলাইন দেয়া হয়েছিল।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, মেধা তালিকার শীর্ষের শিক্ষার্থীরা রহস্যজনক কারণে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পায়নি। এতে বিস্মিত ও হতভম্ব হয়েছেন অভিভাবকরা। হতাশায় ভেঙে পড়েছে কোমলমতি মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ও রাজশাহী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তৌহিদ আরা বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও বুঝতে পারছি না, কেন এমনটা হল। মেধা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার কথা। অনেক অভিভাবক এমন অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো জবাব নেই।’
রাজশাহীর সরকারি স্কুলে ভর্তির কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাউশির পরিচালক অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন ও উপ-পরিচালক মোস্তফা কামালের সঙ্গে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।’