সীতাকুণ্ডে খাল ভরাট করে কারখানা নির্মাণে কোটি টাকা জরিমানা

সীতাকুণ্ডে খাল ভরাট করে কারখানা নির্মাণের অভিযোগে একেএস স্টিল মিলস নামের একটি ইস্পাত কারখানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট স্কেবেটর জব্দসহ এক কোটি টাকা জরিমানা করেছে। সেই সঙ্গে ওই কারখানার ১০ জন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। 
 
জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টায় ভাটিয়ারী ইউনিয়নের চৌধুরী ঘাটা এলাকায় ভ্রামমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুব আলম একেএস স্টিল মিলস ইছামতি খাল ভরাট করায় অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার স্কেবেটরসহ ওই মিলের শ্রমিক রানা (২৩), সুমন (২১), খোকন (২৪), আসাদুল (২৮), আমজাদ হোসেন (২৭), মজনু হোসেন (২৬), শিপন (৩৬), স্বপন (২১), জসিম (৩০) ও কাজী শাহা আলমকে (৩৫) আটক করা হয়েছে। 
 
উল্লেখ্য, চৌধুরীঘাটার কয়েকশ একর পাহাড় কেটে কয়েকশ বছরের পুরাতন ইছামতি খাল ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে একটি কারখানা নির্মাণ করে আসছিল একেএস স্টীল মিলস কর্তৃপক্ষ। পাহাড় থেকে নেমে আসা এই খাল দিয়ে ১০-১২টি গ্রামের পানি সাগরে গিয়ে মিশে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে খালটি ভরাট করতে থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে খাল দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গ্রামে বসবাসকারীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। তাই এলাকাবাসী খাল ভরাট বন্ধের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল এবং ইতিপূর্বেও এলাকাবাসী আন্দোলনে গড়ে তুললে তাদের ওপর আবুল খায়ের কর্তৃপক্ষ হামলা চালায় বলে এলাকাবাসী জানান। 
 
এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মাহাবুব আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'আগে একাধিকবার খাল ভরাট বন্ধ ও খালে পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষকে বারবার নোটিশ স্বত্ত্বেও তারা কর্ণপাত না করায় এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত স্কেবেটর ভাটিয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল আনোয়ারের জিম্মায় দেয়া হয়। 
 
এদিকে মিলের ডেপুটি ডাইরেক্টর ইমরুল জানান, তিনি জরিমানার কোনো কাগজপত্র পাননি এবং এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কিছুই জানেন না।