জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

জীবজগতে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের তাত্পর্য

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন

সিনিয়র শিক্ষক

দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে. উচ্চ বিদ্যালয় কুমিল্লা।

 

 

জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি

 

প্রশ্নগুলোর উত্তর করতে যে বিষয়গুলো জানা থাকা প্রয়োজন তা তুলে ধরছি।

ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিস এবং মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব

Ì আমরা জানি, মাইটোসিস কোষ বিভাজন একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি। মাইটোসিস কোষ বিভাজনটি দুইটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়াস এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন হয়। নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।

Ìমাইটোসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব:

মাইটোসিস কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষ কতগুলো ধাপ অতিক্রম করে দুইটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজিত না হলে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হতো না। ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটবে না। সকল জীবের শুরুই জাইগোট নামক একটিমাত্র কোষ থেকে। মাইটোসিস কোষ বিভাজন না ঘটলে জাইগোট কোষ জাইগোটই থেকে যেতো, বহু কোষী জীবে পরিণত হতো না। এ বিভাজন না ঘটলে কোষের স্বাভাবিক আকার, আকৃতি ও আয়তন বজায় থাকবে না এবং এককোষী জীবের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পরিশেষে বলা যায় মাইটোসিস কোষ বিভাজন ব্যতিত জীবের বৃদ্ধি অসম্ভব।

Ì জীবজগতে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের তাত্পর্য:

Ì মিয়োসিস কোষ বিভাজন ডিপ্লয়েড জীবের জনন মাতৃকোষে অথবা হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোটে ঘটে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একটি জটিল পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। অপত্যকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। মিয়োসিস সর্বদা মাতৃকোষে তথা মায়োসাইটে সম্পন্ন হয়। কখনো দৈহিক কোষে ঘটে না এবং সর্বদাই 2n সংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট ডিপ্লয়েড কোষ হয়। নিম্নশ্রেণির জীবে মিয়োসিস হয় নিষেকের পর জাইগোটে। আর উচ্চ শ্রেণির জীবে মিয়োসিস হয় নিষেকের পূর্বে জনন মাতৃকোষ হতে গ্যামেট সৃষ্টিকালে।

ডিপ্লয়েড জীবে গ্যামিট সৃষ্টিকালে জনন মাতৃকোষে এবং হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোট ও মিয়োসিস হয় বলে প্রজাতির বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন থাকে। তাই প্রজাতির বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রাখতে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব অপরিসীম।