তারিফ সৈয়দ
চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এর প্রচার প্রপাগান্ডা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ বিভিন্ন বিনোদন মাধ্যমে দর্শকদের চোখ প্রতিনিয়ত ব্যস্ত। সেক্ষত্রে নতুন করে ভাবতে পারছেন না বা চাইছেন না খুঁজে খুঁজে ভালো ছবির কথা।
তাই অনেকেই নির্ভর করেন এসব ছবির রেটিংয়ের ওপরে। কিন্তু বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্স অফিস রিপোর্ট জানার উপায় নেই। কারণ হলগুলোতে সেই স্বয়ংকৃত সফটওয়ারের মাধ্যমে প্রযোজক জানতে পারেন না যে, তার প্রকৃত অর্থেই কতগুলো টিকেট বিক্রি হলো।
অন্যদিকে প্রকৃত রেটিং বা ব্যবসাসফলতার কথা দর্শকরাও জানতে পারেন না। সেক্ষেত্রে অনেকেই নির্ভর করেন বিভিন্ন চলচ্চিত্রভিত্তিক ফেসবুক পেজের ওপরে। যেখানে মেম্বাররা রিভিউ প্রকাশ করেন। কিন্তু সুযোগ সন্ধানী এসব ফেসবুক পেজগুলো নিজেদের ফ্যান ফলোয়ারের শক্তিকেই অনেক ক্ষেত্রে অপব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে প্রযোজক নিজে এসব ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনকে আলাদা অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা যায়। কারণ টাকা না দিলে তারা তাদের জনপ্রিয় পেজে চলচ্চিত্র নিয়ে নেগেটিভ রিভিউ প্রকাশের হুমকি দিয়ে থাকে। তাই একদিকে চলচ্চিত্র ডিস্ট্রিবিউটরদের হাতে যেমন জিম্মি থাকেন প্রযোজক তেমনি গত কয়েকবছর ধরে এসব ব্ল্যাকমেইলকারী ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনের ভয়ে থাকছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সকলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রযোজক জানান, ২০১৮ সালে তার ছবির উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাজে রিভিউ করে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। পরে তাদের বেশ ক’জন অ্যাডমিনকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে তাদের বাজে রিভিউ ডিলিট করতে হয়েছে।
তবে এ সংখ্যা ইদানিং বেড়েই চলছে। একদিকে প্রযোজকরা লগ্নিকৃত টাকা প্রদর্শকদের কাছ থেকে না পেয়ে দিশেহারা। খোদ আয়নাবাজির প্রযোজকই যখন বলেন যে, বাজার থেকে টাকা তুলতে পারেননি। ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিটি সুপারহিট হওয়ার পরও প্রযোজক জানান ছবিটি লোকসান দিতে হয়েছে। এই নাজুক অবস্থায় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হলো এই ‘ফেসবুক অ্যাডমিনদের ব্ল্যাকমেইল’।
এ বিষয়ে পরিচালক সমিতি, শিল্পী সমিতির সাথে যোগাযোগ করলে তারাও বিষয়টি বিচ্ছিন্নভাবে শুনেছেন বলে জানান এবং দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
কারণ এখনই এই অপকর্ম প্রতিহত না করতে পারলে এই সঙ্কট আরো বাড়বে বলেই সকলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।