নির্ধারিত সময়ের আগেই উত্তরপত্র নেয়ায় ৪ পরিদর্শককে অব্যাহতি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এসএসসি পরীক্ষার নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র ১৫ মিনিট দেরিতে বিতরণ ও নির্ধারিত সময়ের আগেই উত্তরপত্র নেয়ায় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের প্রায় ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের ৪ পরিদর্শককে অব্যাহতি দেয়া হয়।
 
সোমবার দুপুরে পৌর শহরের এলএম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই কক্ষের ৫ শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে অভিভাবকরা তাদের উদ্ধার করে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা ও অন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের ৪ পরিদর্শক চন্দন, মন্ত্রী স্কুলের মাহাবুব, ইউনুস, ও কাজের দির্ঘীরপাড়া স্কুলের পারভেজকে পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি করা হয়েছে।
 
জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টায় বাংলা-১ম পত্রের নৈবিক্তিক পরীক্ষার ১৫ মিনিট পর রচনামূলক প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের নিকট সরবরাহ করা হয়। কোন কারণে যত মিনিট পরে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হবে ঠিক তত মিনিট পরেই উত্তরপত্র নেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তা না করে ওই কক্ষের দায়িত্বরত এলএম, মিরগঞ্জ, চরপাতা ও কাজিরদিঘীর পাড়ের পরিদর্শক অতিরিক্ত সময় না দিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তরপত্র নিয়ে যান। এতে পরীক্ষার্থী ছিদ্রাতুন বিন মুনতাহা এলমি, সেবিকা পাল, একা মজুমদার, রিসালাত জাহান মিম, তানজিনা সুলতানা, মেহেরুন নেছা, আলিফ, শান্তা, সিহাবসহ ৩৫ জন পরীক্ষার্থী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের মধ্যে পাঁচজন জ্ঞান হারান। এতে অভিভাবকরা উত্তোজিত হয়ে হট্টগোল চালালে তাৎক্ষণিক ওই চার পরিদর্শককে অব্যাহতি দেয়া হয়।
 
এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব আবুল কালাম ও হল সুপার আলমগীর হোসেনে বলেন, ওই কক্ষের চার পরিদর্শকরা বেলের শব্দ না শোনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই উত্তরপত্র নিয়ে যান। এতে ওই কক্ষের ছাত্র-ছাত্রীর হট্টগোল শুরু করে। পরে অভিভাবকরাও এসে জড় হয়। পরে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা ও অন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।