হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলা শহরকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার দাবি উঠেছিল সেই ১৯৬১ সালে। এ অঞ্চলের সবজি, পাথর ও মাছ কম খরচে ঢাকায় পৌঁছানো এবং একমাত্র সড়কের বিকল্প হিসেবে রেলপথ চালুর দাবি দীর্ঘদিনের।
তৎকালীন সিলেট ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সদস্য, সুনামগঞ্জের হাসননগরের ডা. লেইসের সহধর্মীণি রাবেয়া লেইছ ১৯৬১ সালে প্রথম ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সভায় এই দাবি তুলেছিলেন। এই দাবিটি পৌঁছানো হয়েছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়েও। এরপর থেকে জেলাবাসী বারবার এই দাবি করে আসছেন, প্রতিশ্রুতি শুনে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেও থমকে আছে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
২০১১ সালে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সেসময়কার সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল লেইছ রোকেস জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঐ সমিতির পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।
সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, সাবেক শিক্ষা সচিব ও বর্তমানে সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য ড.মোহাম্মদ সাদিকও বিভিন্নভাবে সরকারকে একই দাবি জানাচ্ছেন।সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দপ্তফতরের মহাপরিচালককেও এ বিষয়ে আধা সরকারি পত্র দেন তিনি। ছাতক থেকে আমবাড়ী হয়ে আসা সড়কের পাশ দিয়েই রেললাইন বর্ধিত করা যায় উল্লেখ করে তিনি গণমানুষের এই দাবিকে গুরুত্ব দেবার অনুরোধ জানান।
জেলা শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য দু'দিক থেকে চেষ্টা চলছে। জেলার ছাতক থেকে রেলওয়ে লাইন বর্ধিত করে শহরের মাইজবাড়ী-বদিপুর পর্যন্ত এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের বৈঠাখালি পর্যন্ত। কোনটিই হচ্ছে না। তবে মোহনগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রেলাইন বর্ধিত করণের প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী ডিপিপিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু এখনো এই নির্দেশনা কাগজেই বন্দি।
কিছুদিন আগে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন রেললাইন বর্ধিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন জানিয়েছেন। প্রকল্পটি ডিপিভিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
ড.মোহাম্মদ সাদিক বলেন, 'বর্তমান রেল সচিব আমার ব্যাচমেট। সচিব ও ডিজির সঙ্গে একাধিকবার আলাপ করে রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়ে অনুরোধ করেছি, বলেছি ছাতক থেকে লাইন বর্ধিত করে সুনামগঞ্জের মাইজবাড়ী-বদিপুর এলাকায় স্টেশন করা কঠিন কোন কাজ না।'
সুনামগঞ্জবাসীর আশা, সরকার অচিরেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। পূরণ হবে জেলাবাসীর স্বপ্ন।