ভালো উদ্যোগের ফাঁকগুলি বন্ধ করিতে হইবে

অন্য যেকোনো বাহনের চাইতে রেলভ্রমণ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। দেশের যেই সকল জেলায় রেলপথ রহিয়াছে, সেই সকল এলাকার যাত্রীদের যাতায়াতের প্রথম পছন্দ ট্রেন। কিন্তু টিকিট সংগ্রহ করিতে গিয়া অনেক ক্ষেত্রেই হয়রানির শিকার হইতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। অথচ প্রতিবেশী একটি বৃহত্ দেশেও দূরপাল্লার রেলব্যবস্থা অনেক বেশি আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব। বাংলাদেশে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকিবার কারণে টিকিটের কালোবাজারি এই ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা। কালোবাজারিদের সহিত যোগসাজশের অভিযোগ রহিয়াছে রেলের কোনো কোনো অসাধু কর্মচারীর। সুতরাং কালোবাজারি রোধ করিবার পথে বাধা কম নহে। সম্প্রতি কালোবাজারি রোধে রেল কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন ছাড়া কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রয় না করিবার উদ্যোগ লইয়াছে। আর এই নিবন্ধন করিতে লাগিবে যাত্রীর নাম, ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা জন্মসনদ নম্বর। এইসকল তথ্য টিকিটে প্রদর্শিত হইবে। ঢাকা হইতে সারা দেশে চলাচলকারী ৩৩টি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে আটটি আন্তঃনগর ট্রেনে নূতন নিয়মে টিকিট বিক্রয় ইতোমধ্যে শুরু হইয়াছে। ইতঃপূর্বে গত পহেলা জানুয়ারি সোনার বাংলা ট্রেনে এই পদ্ধতি চালু করা হইয়াছিল। এখন সোনার বাংলা ট্রেনের সহিত নূতন করিয়া যুক্ত হইল সুবর্ণ, মহানগর গোধূলি, মহানগর প্রভাতী, পদ্মা, চিত্রা, পারাবাত ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস। একটি এনআইডি নম্বরে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট ক্রয় করা যাইবে। তবে একবার নাম নিবন্ধন করিলে পরবর্তীসময়ে আর নূতন করিয়া নিবন্ধন করিতে হইবে না। এই নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাইবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা ই-সেবায়, মোবাইল অ্যাপ ও স্টেশন কাউন্টারে।

আমরা জানি, প্রতিবেশী দেশ ভারতে টিকিটের গায়ে যাত্রীর নামের আদ্যাক্ষর ও পদবীসহ বয়স মুদ্রিত থাকে। সেইখানে যিনি ভ্রমণ করিবেন তাহার নামেই টিকিট সংগ্রহ করিতে হয়। নাম ও বয়স থাকিবার কারণে একজনের টিকিট দিয়া সেই দেশের রেলে অন্যজনের ভ্রমণ করিবার কোনো সুযোগ নাই। বাংলাদেশে নূতন ব্যবস্থাপনায় টিকিট কালোবাজারি হয়তো সম্পূর্ণ রোধ করা যাইবে না, তবে অনেকটাই লাঘব করা যাইবে নিঃসন্দেহে। এনআইডি ও মোবাইল ফোনের সমন্বয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হইলে টিকিটের কালোবাজারির লাগাম টানা সম্ভবপর হইতে পারে। মনে রাখিতে হইবে, বাংলাদেশে এনআইডি নম্বরের গোপনীয়তা রক্ষিত হয় না। বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি নম্বর প্রদান করিতে হয়। স্মার্ট কার্ড ছাড়া লেমিনেটেড আইডি এবং জন্ম নিবন্ধনের কোনো নিরাপত্তা চিহ্ন নাই। তাই অন্যের আইডি দিয়া টিকিট ক্রয় করিয়া তাহার সহিত একটি নকল এনআইডি সহজেই সরবরাহ করিতে পারিবে কালোবাজারিরা। চতুর কালোবাজারিদের নিকট ইহা খুব কঠিন কাজ হইবে না। সুতরাং এইসকল বিষয় রেলের টিকিট ক্রয়ের পরবর্তী হালনাগাদকরণের ক্ষেত্রে বিবেচনা করিয়া দেখা যাইতে পারে। আরো উত্তম যাত্রীসেবা প্রদানের ব্যাপারে সরকার যে আন্তরিক, তাহার প্রতিফলন সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে না ঘটিলে কোনো উদ্যোগই শেষাবধি সফল হইবে না।