মুক্তিপণ দিয়েও মিলল শিশু আবদুল্লাহ’র লাশ

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অপহূত কুয়েত প্রবাসীর পুত্র স্কুল ছাত্র মো. আব্দুল্লাহ’র (১১) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের চারদিন পর গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পশ্চিম মুগারচর এলাকায় তাদের বাড়ির পাশেই অবস্থিত আত্মীয় মোতাহারের তিনতলা বাড়ির একটি কক্ষে তার লাশ পাওয়া যায়। একটি ড্রামের মধ্যে এসিডে ডুবিয়ে রাখা ছিল লাশটি। গত শুক্রবার দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় আব্দুল্লাহ। তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মুক্তিপণও দিয়েছিল তার পরিবার।

 
লাশ উদ্ধারের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ মুগারচর চৌরাস্তায় ভিড় করে। কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে মোতাহারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে। এ সময় মোতাহার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোতাহারের ছেলে মেহেদী হাসান, স্ত্রী সালমা বেগম, সহযোগী মো. খোরশেদ আলম ও আল-আমীনকে আটক করেছে। মুগারচর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 
নিহত আব্দুল্লাহর বাবা মো. বাদল হোসেন বলেন, আমার ছেলে অপহরণের খবর পেয়ে কুয়েত থেকে দেশে ফিরে আসি। তাকে জীবিত পাওয়ার জন্য দুই দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে অপহরণকারীদের। আমার চাচাতো ভাই মোতাহার অপহরণের নাটক সাজিয়েছে। সে-ই আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। শুক্রবার বিকালে মোতাহারের ছেলে মেহেদী হাসান আমার ছেলেকে বাসা থেকে খেলার কথা বলে ডেকে নেয়। তারা প্রথমে আমার স্ত্রী রিনা আক্তারের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। অপহরণকারী মোতাহার তার সহযোগী মো. খোরশেদ আলম ও মেহেদী হাসান স্থানীয় কিছু লোকজনের মোবাইলে অপহরণের টাকা পেতে ম্যাসেজ দিয়েছিল।
 
অপহরণকারীরাই ঘটনার পরের দিন শনিবার সকাল ১১টায় আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে মুগারচর চৌরাস্তায় স্কুল ছাত্র ও স্থানীয়দের দিয়ে মানববন্ধন করে। তাদের এই মানববন্ধন ছিল একটি কৌশল। অপহরণকারীদের মধ্যে মো. খোরশেদ সোমবার দুপুরে কোনাখোলা এলাকায় মামলার তদন্তকারী অফিসার সফিকুল ইসলামের সঙ্গে দয়াল হোটেলে খাবার খায়। এসময় ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মাসুদ রানা পুলিশের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছিল। সোমবার গভীর রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ মুগারচর এলাকায় অভিযান করতে গেলে অপহরণকারী মো. খোরশেদ আমাদের বাড়িতে আসে। গভীর রাতে খোরশেদ আলম আমাদের বাড়িতে আসায় পুলিশের সন্দেহ হয়। এসময় পুলিশ খোরশেদ আলমকে আটক করে। তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অপহরণের কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মোতাহারের বাড়ি থেকে ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের মা রিনা আক্তার বলেন, তার ছেলে পশ্চিম মুগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র। সে অনেক মেধাবী ছিল। তার স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়ার। অপহরণকারীরা আমাদের নিকটাত্মীয়। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেয়ার পরও তারা আমার ছেলেকে হত্যা করে ড্রামের ভেতর এসিড দিয়ে রেখে দেয়। লাশ গুম করাই তাদের টার্গেট ছিল।
 
রোহিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল আলী বলেন, অপহরণের ঘটনাটি নিয়ে চারদিন ধরে নাটক চলছিল।
 

ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বলেন, অপহরণের ঘটনার পর থেকে রোহিতপুর ইউনিয়নের চারিদিকে ব্যাড়িকেড দিয়েছিল পুলিশ। মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে দেখা গেছে অপহরণকারীর অবস্থান রোহিতপুর এলাকার ভেতরে। তাদের ধারণা ছিল স্কুল ছাত্র আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু স্কুল ছাত্র আব্দুল্লাহকে তারা এসিড দিয়ে গলিয়ে লাশ গুম করতে চেয়েছিল। ড্রামের কাছ থেকে এসিড ভর্তি একটি কন্টেইনার উদ্ধার করা হয়েছে।