ইনানী জাতীয় উদ্যান ‘প্রস্তাবিত’ই রয়ে গেছে

দীর্ঘদিনেও সরকারি স্বীকৃতি পায়নি উখিয়ার প্রস্তাবিত ইনানী জাতীয় উদ্যান। জানা গেছে, ২০০৯ সালে ইনানীর ১০ হাজার হেক্টর বনভূমি জুড়ে প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা শেড ও বন নির্ভর জনগণকে নিয়ে আরণ্যক ফাউন্ডেশন কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে ১৩৫৬ হেক্টর এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে বনকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। ১১০ হেক্টর ন্যাড়া পাহাড়ে ৪ লক্ষাধিক চারা রোপণ করা হয়েছে। সামাজিক বনায়নসহ পাহাড় কাটা, বনে আগুন দেয়া, বন্যপ্রাণি শিকার প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ায় এখানে জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়নে সকল বাধা অপসারণ হয়েছে। এখন এটি স্বীকৃতি পেলে পর্যটন খাতে আরো প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 
শেডের প্রকল্প সমন্বয়কারী সাদাত হোসেন জানান, বন রক্ষা কমিটির সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ইনানী জাতীয় উদ্যানের সরকারি স্বীকৃতির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পর পর ৪ বার প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়নে যে সমস্ত নীতিমালা, বাধ্যবাধকতা রয়েছে এ বনে তা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কেন স্বীকৃতি মিলছে না তা বোধগম্য নয়।
 
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বছর বছর ওই বনে বনায়ন সৃজন, বন সংরক্ষণের নামে মোটা অংকের   বরাদ্দ পেয়ে থাকে। যার অধিকাংশই ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়। জাতীয় উদ্যান স্বীকৃতি পেলে ওইসব অনিয়ম ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বিমত ও বিরূপ প্রভাবের কারণে জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি লাল ফিতায় আটকে আছে।
 
তবে সম্প্রতি পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরের উপসচিব মো. মহি উদ্দিন প্রস্তাবিত ইনানী জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরে এক মতবিনিময় সভায় শিগগিরই এটি সরকারি স্বীকৃতি পাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
 
ইনানী বনরক্ষা সহায়ক কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, দীর্ঘ ৭ বছরে ইনানীর ১০ হাজার হেক্টর বনভূমিকে অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছে। এখন এ বনে নানা জীব বৈচিত্র্য ছাড়াও বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এ বনকে জাতীয় উদ্যান স্বীকৃতি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।