ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশ দল
স্পোর্টস রিপোর্টার
২০১০ ও ২০১১ সালে প্রাণ সংহারী কতগুলো ভূমিকম্পের ফলে সারা পৃথিবীতে আলোচনায় এসেছিল ক্রাইস্টচার্চ। এখনো সেসব ভূমিকম্পের স্মৃতি ধরে রেখেছে শহরটি। আর এ শহরেই এখন বাংলাদেশ দল। এখানে চলতি সফরে একটি ওয়ানডেও খেলেছে বাংলাদেশ। এবার এখানেই সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলে সমাপ্তি টানবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।
এই নিউজিল্যান্ড সফর থেকে বলার মতো কিছুই নিজেদের অর্জনের ঝুলিতে পুরতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো প্রতিটা ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের গ্লানি সঙ্গী হয়েছে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই টেস্টেই বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। এর মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম দু’দিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পরও ইনিংস ব্যবধানে হারতে হয়েছে। এসব গ্লানি থেকে মুক্তির শেষ উপায়, এই ক্রাইস্টচার্চে অন্তত ভালো কিছু ক্রিকেট খেলে ফেরা। সেটা বাংলাদেশ পারবে কি না, তা বোঝা যাবে সময়ে। আগামী ১৬ মার্চ থেকে এখানে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট।
তার আগে নিজেদের প্রথম দুই টেস্টের পারফরম্যান্স ফিরে দেখতে গিয়ে দলের তরুণ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন বলছিলেন, তাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। মিঠুন ওয়ানডেতে ভালো পারফরমই করেছেন নিউজিল্যান্ডে। বাকি ব্যাটসম্যানদের মতো টেস্টে তিনিও ব্যর্থ। টেস্টের ব্যর্থতার কারণ বলতে গিয়ে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বলছিলেন, ফরম্যাট আলাদা হওয়ায় তার পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়েছে, ‘দুইটা তো দুই রকম ফরম্যাট। ওয়ানডের সঙ্গে টেস্টের কোনো মিল নেই। ওয়ানডের বোলার যেই প্ল্যানে বল করে টেস্টে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্ল্যান থাকে। আমাদের এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতন যথেষ্ট সময় ছিল না। তারপর ওরা আমাদের যেইভাবে অ্যাটাক করেছে, ওরা যেই টাইপের বল করেছে, সব মিলিয়ে কিছু না হলে তো রেজাল্টটা এমন হতো না।’
মিঠুন বলছিলেন, টেস্টে একটা বড় পরীক্ষা হয় মানসিক শক্তির। সেই পরীক্ষায় তারা ভালো করতে পারছেন না। তবে চেষ্টার অভাব দেখছেন না তিনি, ‘টেস্ট ক্রিকেটটাই এমন। টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে সব ফরম্যাটের পার্থক্যটাই এখানে। আপনি কতটা মেন্টাল স্ট্রেন্থ নিয়ে খেলতে পারেন, কতটা ডিটারমাইন্ড হয়ে খেলতে পারেন। আমি সিউর সবাই তার একশ ভাগ দেওয়ার চেষ্টা করে। আমরা কোনো ক্লাবের হয়ে বা পাড়ার ক্রিকেট খেলছি না, আমরা দেশের হয়ে খেলছি। চেষ্টাটা থাকে সবসময়। প্রতিদিন তো সবাই পারে না। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করেছি।’
ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা তো আছেই। সেই সঙ্গে এখানকার বোলিং সহায়ক কন্ডিশনেও ব্যর্থ হচ্ছেন বাংলাদেশের বোলাররা। বোলারদের পাশে দাঁড়িয়ে মিঠুন বললেন, এ ধরনের উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা পারছে না, ‘টেস্টের কথা যদি বলেন, এমন উইকেট আমাদের দেশে তৈরি করাটা কঠিন। শুধু উইকেট তৈরি করলেও হবে না। এই টাইপের বোলারও লাগবে। আর ওদের এক একজন বোলার কত অভিজ্ঞ, কত দিন ধরে খেলছে, টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খুব বেশি ম্যাচ খেলা বোলারও নেই। ওরা খেলতে খেলতেই এত ভালো হয়েছে। আমাদেরও যদি সুযোগ থাকে ম্যাচ খেলার, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট যদি খেলতে পারি তাহলে একসময় আমাদের বোলিংও অনেক ভালো হবে।’