জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় শিশু কন্যা আরাধ্যা রানীকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই খুন করা হয়েছে মর্মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দুইজন।
আদালত সূত্র জানায়, পাঁচবিবি উপজেলার রশিদপুর বাজারের ব্যবসায়ী পরেশ চন্দ্রের শিশু কন্যা আরাধ্যা রানী গত ২২ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়। ওইদিন মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত স্থান থেকে অপহরণকারীরা বাবা পরেশ চন্দ্রকে অপহরণের কথা জানায়। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক পুলিশকে বিষয়টি জানানো এবং মামলা করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর ২৫ ডিসেম্বর শিশু আরাধ্যার লাশ পাওয়া যায় বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করার পাশাপাশি প্রতিবেশি বিরেশ চন্দ্রকে গ্রেফতার করে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় বিরেশ। পুলিশ বিরেশের দেয়া তথ্যমতে, মোস্তাফিজুর রহমান রাব্বু ও ওবায়দুল নামের দুইজনকে গ্রেফতার করে। পরে এ ঘটনায় অনুসন্ধান চালিয়ে র্যাব টিপলু নামের আরেকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করে। ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
১ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমিন ভূঁইয়ার আদালত বিরেশের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি বিরেশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দির সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ গত শুক্রবার একই এলাকার উত্তম চন্দ্রকে গ্রেফতার করে।
শনিবার আদালতে হাজির করা হলে উত্তম চন্দ্রও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মুক্তিপণের জন্যই শিশু কন্যা আরাধ্যকে খুন করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তিতে বলেন দু’জনেই।