১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে যে মানুষটি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন সেই মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন প্রামানিক (৬৯) এখন ফেরিওয়ালা। বয়সের ভারে ঠিকমত চলতে না পারলেও কাঁধে ঝুলানো ব্যাগ, হাতে ব্যাগ আর চিরুনির গোছা নিয়েই হেঁটে চলেন শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। সুরেলা কণ্ঠে আওয়াজ তোলেন ‘সুঁইয়ের বস্তা এক টাকা, যাই নেবেন এক টাকা’। যা আগে বলতেন এক আনা। এভাবেই ৫০ বছর ধরে ফেরিওয়ালার ব্যবসা করে কোনমতে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি।
জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ এলাকার জগদিশপুর গ্রামে বসবাস করেন মোসলেম উদ্দিন। অভাবের সংসারে জন্মগ্রহণ করায় লেখাপড়া ভাগ্যে জোটেনি। জমা-জমি বলতেও তেমন কিছু নেই। থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। স্ত্রী বিলকিস বেগম ও মেয়ে ফাতেমা খাতুনকে নিয়ে সংসার হলেও মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন ৭ বছর আগে। মেয়ের ঘরে নাতী-নাতনী রয়েছেও। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি নাটোরে আনসার বাহিনীর টাউন প্লাটুনে যোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেখান থেকে নাটোরের গোপালপুর ওয়ালির মনা এলাকায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন বলে জানান মোসলেম উদ্দিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রশিক্ষণ গ্রহণের কাগজপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র হারিয়েছেন তিনি। ফলে পথে পথে ফেরিওয়ালার কাজ করলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি আজও। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও ফেরিওয়ালার কাজ করে সংসার চালান কোনমতে। এমনকি ৫০ বছর ধরে ফেরিওয়ালার কাজ করলেও কেউ খোঁজ নেননি বলে জানান তিনি।