দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে ফেলে নিজের নামে করায় র্যাব-১৪ এর কর্মকর্তা মেজর রিয়াদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৪ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রাজীব কুমার দে।
প্রত্যাহার করার পরে র্যাব-১৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর রিয়াদুল ইসলামকে ময়মনসিংহে র্যাব-১৪ এর প্রধান কার্যালয়ে ক্লোজ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক (এএসপি) রাজীব কুমার দে-কে করা হয়েছে ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।
এদিকে, কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলে সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভিত্তিফলক সরিয়ে নিজের নামে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করায় মেজর রিয়াদের শাস্তি দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড।
মঙ্গলবার দুপুরে একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে যুব কমান্ডের সদস্যরা।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের সদস্য সচিব এনায়েত করিম অমি। উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহসহ মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতারা।
পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে মেজর রিয়াদুল ইসলামকে গ্রেফতারসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রমতে, ১৯৭৫ সালের ৫ মার্চ যশোদলে বাংলাদেশ ট্রেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। মিলটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এটি ব্যবহার করা হচ্ছে র্যাব-১৪, সিপিসি-২ এর প্রধান কার্যালয় হিসেবে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি মিলের ভেতরে মসজিদের সামনে স্থাপিত সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভিত্তিফলকটি ভেঙে ফেলা হয়। আর এর পাশেই লাগানো হয় র্যাব-১৪ এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২ এর অস্থায়ী কার্যালয় ও কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস জামে মসজিদ সংস্কার কাজের উদ্বোধক হিসেবে কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রিয়াদুল ইসলামের নাম।
এ ঘটনায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের পরিবারসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।