গেলো জানুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। মূলত খাদ্য পণ্যের দাম কমে আসায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী। কিন্তু এসময় খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো- বিবিএস। রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে হালনাগাদ প্রতিবেদনটি সংবাদ মাধ্যমে উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহ ম মুস্তফা কামাল। এসময় জানানো হয়, দেশে খাদ্য পণ্যের দাম না বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি কমেছে। জানুয়ারি মাসে বাড়িভাড়া না বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও কিছুটা কমে আসত। জানুয়ারি মাসে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।
ডিসেম্বরে এ খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। আর নভেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত উপখাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ হিসেবে জানুয়ারিতে খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতি কমে আসলেও বেড়েছে অন্যান্য পণ্যের দাম।
এসময় স্কুলে শিক্ষা খরচ, বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিত্সা সেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দামও বাড়তির দিকে ছিলো। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আগস্ট মাসে তা নেমে আসে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশে। সেপ্টেম্বরে আবার ৬ দশমিক ২৪ শতাংশে উন্নীত হলেও অক্টোবরে তা নেমে আসে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশে। আর এক দফায় কমে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি নেমে আসে ৬ দশমিক ০৫ শতাংশে। ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে মূল্যস্ফীতি দাড়ায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশে। জানুয়ারিতে আবার তা কমে ৬ দশমিক ০৭ শতাংশে নেমে আসে।
অর্থবছরের শুরুতে জাতীয় বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২০ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে এ লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের মাসে এর হার ছিল ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর নভেম্বর মাসে খাদ্যপণ্যে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল।