উপজেলায় সর্বনিম্ন ভোট ১৩ শতাংশ

উপজেলা নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলেও ভোটারের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। প্রথমধাপের উপজেলা নির্বাচনে রাজশাহীর বাগমারায় সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। ৬টি উপজেলায় ৩০ শতাংশের নিচে ভোট পড়েছে। ৭৮টি উপজেলায় গড়ে ভোট পড়েছে ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবার ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট কম পড়েছে। এবার উপজেলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হলেও ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ায় হতাশ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টরা।

প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতি অতীতের তুলনায় কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে গতকাল বুধবার সিলেটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, বড় দল নির্বাচনে বয়কট করায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। এটাও একটা কারণ হতে পারে।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনেও ভোট কম পড়েছিল। ওই নির্বাচনে ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পড়ে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় ৯৭টি উপজেলায় গড়ে ৬২ দশমিক ৩৭ শতাংশ ভোটার  ভোট দিয়েছিলেন। আর ১০ বছর আগে ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি  একদিনে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে  ৪৭৫টি উপজেলায় ভোট প্রদানের এ হার ছিল গড়ে ৬৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, এবারে বিএনপিসহ সরকার বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলো এ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কারণে ভোট প্রদানের হার আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় কম। এছাড়া এবার চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হয়নি। স্বতন্ত্র যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

গত রবিবার দেশের ৭৮টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় তিনটিতে নির্বাচন হয়নি। সবমিলিয়ে ৮১টি উপজেলার ফলাফল একীভূত করেছে ইসি সচিবালয়। এতে দেখা গেছে, ১ কোটি ১০ লাখ ৫২ হাজার ৬৩জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫১২জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ৩৫৪জন ভোট বাতিল হয়েছে। বাকি ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। ৬টি উপজেলায় ৩০ শতাংশে কম ভোট পড়েছে। সেগুলো হচ্ছে-পঞ্চগড় সদর (২০.৬৩ শতাংশ), কুড়িগ্রামের উলিপুর (২৯.৭২ শতাংশ), নীলফামারীর ডিমলা (২৪.৮৯ শতাংশ), লালমনিরহাট সদর (২৬.০৯ শতাংশ), রাজশাহীর পুঠিয়া (২৬.৬৯ শতাংশ) ও বাগমারায় (১৩.১৯ শতাংশ)। বাগমারা উপজেলায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৪টি ভোটের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬৭০ ভোট পড়েছে। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের অনিল কুমার সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এখানে শুধু ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে সর্বোচ্চ ভোটপড়া আটোয়ারী উপজেলায় ৯৬ হাজার ২১টি ভোটের মধ্যে ৬৮ হাজার ৩২৬টি ভোট পড়েছে। ভোটের প্রদত্ত হার ৭১ দশমিক ১৬ শতাংশ। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। ভোটার বাড়ানোর ব্যাপারে কমিশনের ভূমিকা নেই। যেহেতে উপজেলা দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ যত বাড়বে ততই ভোটারের উপস্থিতিও বাড়বে। আমরা প্রত্যাশা করি ভোটারের উপস্থিতি বাড়ুক। কেননা দেশের প্রধান দুই দলের একটি দল নির্বাচনে না থাকায় ভোটারের উপস্থিতি কম।