যশোরে ৪০ পরিবারকে উচ্ছেদে পুলিশের হুমকির অভিযোগ

যশোর শহরের গাড়িখানায় শতাধিক বছর আগে সরকারিভাবে বরাদ্দ নিয়ে বসবাসকারী ৪০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করতে পুলিশ হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দখলকৃত জায়গায় পুলিশ ক্লাব নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও দখলে নিয়েছে পুলিশ। টাঙিয়ে দিয়েছে পুলিশ ক্লাবের সাইনবোর্ড। আর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এ সবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। 
 
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) মীর মোহাম্মদ সাফিন মাহমুদ পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের মোবাইলে রিং করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। 
 
যশোরের জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবির ইত্তেফাককে জানান, জমিটির বর্তমান অবস্থা জানতে এডিসি রাজস্বকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমাদের জমি হলে আমরা উদ্ধারের জন্য মামলা করব। 
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, ১৯১০ সালে শহরের গাড়িখানা রোড এলাকার সরকারি জমি বরাদ্দ নিয়ে গোপীনাথ রায় চৌধুরী, মাসুদ আলম, আসাদুজ্জামান শিপলুসহ বেশ কয়েকজন বংশানুক্রমে ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ দেয়া জমিটি নিজেদের দাবি করে পুলিশ। এক পর্যায়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। কিন্তু নিন্ম আদালতের রায়ে পুলিশ হেরে যায়। বর্তমানে মামলাটি জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এরই মধ্যে রাতের অন্ধকারে এই এলাকার দোকান ও আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের উচ্ছেদে নামে পুলিশ। রাতের আঁধারে তারা বেশ কয়েকটি দোকান দখল করে দেয়াল তুলে পুলিশ ক্লাবের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে। এখন এই এলাকার আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরিবারগুলোকে হুমকি, ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নেমে যেতে বলা হচ্ছে।
 
সংবাদ সম্মেলনে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক আরো জানান, ‘এই অবৈধ দখল প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। এ কারণে খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ওই এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষ। পুলিশের এই অবৈধ উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।