‘বায়ু দূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রাজধানী শহর’ আন্তর্জাতিক দুটি সংস্থার এমন প্রতিবেদন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জিয়াউল হককে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১০ এপ্রিল সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে তার বক্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন।
আদালত বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় বায়ুদূষণ মারাত্মক পর্যায়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি যদি ঠিকভাবে কাজ করতো তাহলে তো মানুষের এই অবস্থা হতো না। বায়ু দূষণ রোধ করা না গেলে ভবিষ্যত্ বংশধরদের রক্ষা করা যাবে না। অনেকেই বিদেশে সেকেন্ড হোম করছে। আমরা যারা এদেশে থাকব তাদের জন্য শুদ্ধ বায়ু সেবনের পরিবেশ না থাকে তাহলে কারো জীবন নিরাপদ থাকবে না।
গতকাল ‘লিভিং ইন টক্সিক এয়ার’ শিরোনামে একটি ইংরেজী দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওই প্রতিবেদনে ‘গ্রিনপিস’ ও ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’ এর প্রকাশিত রিপোর্ট তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, বায়ু দূষণের সহনীয় মাত্রা (পিএম ২.৫)। এই বায়ুদূষণের কারণে চলতি বছরে বিশ্বে ৭০ লাখ মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটবে। প্রতিবেদনে ঢাকার বাতাসের দূষণের মাত্রা পিএম ৮০’র বেশি দেখানো হয়েছে। এই তথ্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে প্রতিবেদনে নিজের মত তুলে ধরেন জিয়াউল হক। এরপরই হাইকোর্ট তাকে তলব করে। একইসঙ্গে ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।
এর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে দেওয়া প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। প্রতিবেদনে তিনি বলেন, চলতি মাসে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৪টি মামলা ও ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী রাস্তায় রেখে বায়ু দূষণের দায়ে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে মোবাইল কোর্ট। সিটি করপোরেশনের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। হাইকোর্ট বলেন, যেসব এলাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে সেখানে বায়ুদূষণ হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে হাইকোর্টে জানুয়ারি মাসে রিট করে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ।