উন্নয়নের জন্য শিক্ষা উত্কর্ষতা ও জ্ঞানের প্রয়োজন: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, মানুষ যখন সচেতন ও শিক্ষিত হবে তখন সমান্তরালভাবে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, উত্কর্ষতা ও জ্ঞানের প্রয়োজন। উন্নয়ন সাধন যেমন সরকার ও জাতীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব, পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও উদ্যোগ নেয়া হলে অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। এলাকার মানুষ আমাদের শক্তি, আর এ শক্তিকে ব্যবহার করেই সব সময় আমরা ন্যায্য পাওনা আদায়ে সচেষ্ট ছিলাম। 
 
গতকাল সকালে ভাণ্ডারিয়ার রাধানগর-বারিধারায় আমানউল্লাহ মহাবিদ্যালয়ে তাকে দেয়া সংবর্ধনার জবাবে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট ব্যাংকার ও শিক্ষানুরাগী এম এ খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরো বলেন, জাতীয় ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে নিজ এলাকার মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন। অন্য কারও কারও কথা ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু আমরা গত ৩০ বছর স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বিভিন্ন সময় সরকারে দায়িত্ব পালন করেছি। এ দায়িত্ব পালন কালে যোগ্যতা, দক্ষতা, মেধা, অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠার ‘ধার ও ভার’-এ শানিত হয়ে এলাকা তথা দেশের উন্নয়ন কাজে সর্বোচ্চ সচেষ্ট ছিলাম। কখনোই গণবিরোধী বা জনগণের বিরোধী কোনো কাজের সাথে সংশ্রব রাখিনি।
 
তিনি বলেন, সততা ও আন্তরিকতার সাথে প্রতিটি কাজ দূরদর্শিতার সাথে সম্পন্ন করায় ব্রতী হয়েছি। আমাদের রাজনীতি ও সমাজ অত্যন্ত জটিল। এখানে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। আশির দশক থেকে ভাণ্ডারিয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার চিন্তা আমাদের থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ইচ্ছাকে মনে রেখে এই কাজ সবেমাত্র গত বছর করতে পেরেছি। পৌরসভা হওয়ায় যেমন ট্যাক্স বাড়ে আবার পানি-পয়ঃনিষ্কাশন-বিদ্যুত্-রাস্তাঘাট-চিত্তবিনোদন, হাট-বাজারের উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সেবার হারও বৃদ্ধি পায় আশাতীত ভাবে। আমরা সব সময় এলাকার মানুষের একতাকে অক্ষুণ্ন রাখতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতভেদকে নিরুত্সাহিত করে এসেছি।
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় বিভাজন দেখা দিলেও তা হওয়া উচিত সাময়িক এবং আমাদের চেষ্টা থাকবে কোনোক্রমে এ রূপ দ্বন্দ্ব যেন উন্নয়ন কাজে একতা ও ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন করতে না পারে। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, উত্কর্ষতা ও জ্ঞানের প্রয়োজন। আজকে ভাণ্ডারিয়ায় নারীর উচ্চ শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে ১৯৮৯ সালে একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যা আগে সহশিক্ষা মাধ্যমে সীমিত পর্যায় ছিল। এখন এই কলেজ একটি মাইলফলক। আজকে ভাণ্ডারিয়ার নিভৃত গ্রাম রাধানগরে আমানউল্লাহ কলেজ উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অবদান রাখছে তা প্রশংসার যোগ্য। শিক্ষা-স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উত্কর্ষতা অর্জনে প্রথম প্রয়োজন রাস্তাঘাট-বিদ্যুত্ ইত্যাদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন। যা এ অঞ্চলে গত ৩০/৩২ বছরে প্রণিধানযোগ্য মাত্রায় সাধিত হওয়ায় মানুষের সকল ধরনের মৌলিক চাহিদা অর্জনের সহায়ক হয়েছে। তিনি বলেন, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে- সরকার উন্নয়ন খাতে যে অর্থ বরাদ্দ দেয় তার বড় অংশের কাজ হয় না। এর সাথে রাজনীতিবিদ-প্রশাসন নির্বিশেষে সকলেই জড়িত। এই অপচয়-আত্মসাত্ কমাতে পারলে আমাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধিকে ৯/১০ শতাংশে উন্নীত করা যেত। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, আমাদের আশা ও লক্ষ্য হতে হবে উচ্চ। ১৫ বছর আগে থেকে বলে আসছি- ছাগলনাইয়া ও টুঙ্গীপাড়া-কোটালীপাড়া থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে ভাণ্ডারিয়া থেকেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের দেখার অবশ্যই অধিকার রয়েছে। ভাণ্ডারিয়া নিয়ে আমাদের অনেক আশা, অনেক অহংকার, আমাদের অনেক পথ যেতে হবে। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে জাতীয় নেতৃত্ব অর্পণ ও তাদেরকে যোগ্য করে তুলতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আমরা যে প্রভাব, সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কাজ করি তার পিছনে রয়েছে এলাকার জনগণের শক্তি।
 
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এম এ খালেক বলেন, ভান্ডারিয়ার সন্তান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু হচ্ছেন এলাকার মানুষের সাথে জাতীয় সেতুবন্ধ। তিনি দক্ষিণ বাংলার উন্নয়নের পথিকৃত্-আলোকশিখা, তাঁকে অনুসরণ করেই এ প্রত্যন্ত গ্রামে আমানউল্লাহ কলেজের মত একটি শিক্ষা কমপ্লেক্স গড়ে তুলতে সাহস পেয়েছি।
 
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ কায়সার উদ্দীন জোমাদ্দার, ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারেক ও কলেজ শিক্ষক দিপঙ্কর দে।
 
এ সময় মঞ্চে ছিলেন উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র আহ্বায়ক মনিরুল হক মনি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভান্ডারিয়া পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, আওয়ামী লীগের পিরোজপুর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, জেপি’র উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার প্রমুখ। সংবর্ধনা শেষে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
 
এরপর মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাপালিরহাট হাইস্কুল মাঠে ইউনিয়ন জেপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ইউনিয়ন জেপি’র সভাপতি আব্দুল হালিম শরীফের সভাপতিত্বে এখানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, জেপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খলিলুর রহমান খলিল, উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভিটাবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, জেপি নেতা গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ইউসুফ আলী আকন, আবুল কালাম পোদ্দার, সমাজ সেবী মজিবুর রহমান মৃধা, ইউনিয়ন জেপি’র সাধারণ সম্পাদক রেজা আহমেদ দুলালসহ উপজেলা ও স্থানীয় জেপি নেতৃবৃন্দ।
 
সকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভান্ডারিয়া মজিদা বেগম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মানিক মিয়া পাবলিক লাইব্রেরিতে বিশুদ্ধ পানি প্রক্রিয়াজাত ও সরবরাহকরণ প্লান্ট উদ্বোধন করেন। এর আগে মন্ত্রী তাঁর বাসভবনে ভান্ডারিয়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ২০১৫ সালের শ্রেষ্ঠ তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছেকায়েত প্রকল্পের নগদ অর্থের চেক ও সনদপত্র বিতরণ করেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রী ভান্ডারিয়া থানা ইকোপার্কে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নকৃত রেস্টহাউজ ও প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন।