মানিকগঞ্জে হরিরামপুর উপজেলার বসন্তপুরগ্রামে এসএ খতিয়ানভুক্ত ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি (জেগে ওঠা চরের জমি) অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা হচ্ছে এবং সেই সঙ্গে দোকানের পজিশন বিক্রয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে জানা যায়, জেলার হরিরামপুরের আজিমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ও তার ভাই মোশারফ হোসেন মুশা জমির মালিকদের অনুপস্থিতির সুযোগে মার্কেট নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিগুলো ড্রেজার দিয়ে ভরাট করছেন।
আজিমনগর ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বসন্তপুর গ্রামের এনায়েতপুর মৌজার ১১৩ এসএ দাগে জমির মালিক মুকছেদ, নরুদ্দিন, রকনুদ্দিন ও জলিল; তাদের পিতা নছুরুদ্দিন; এসএ ৩৫২ দাগে মালিক লেয়াকত নেছা, স্বামীঃ মোল্লা বন্ধন চৌধুরী; ৩১১নং এসএ দাগে জমির মালিক আইয়ুব খান, পিতা: ইদ্দিস খান; ৩১৭ নং এসএ দাগে জমির মালিক মান্নান মিয়া, পিতা: হাছান মিয়া; ৩১৩নং এসএ দাগে জমির মালিক কাজি মানেজউদ্দিন, পিতা: জাকিরউদ্দিন ও ৩১২ দাগে জমির একই মালিক; ৩১৫ নং এসএ দাগে জমির মালিক কালু খা, ধলু খা, পিতা:ইদ্দিস খা এবং লাল খা, পিতা: জড়ু খা। পদ্মায় ভাঙনের ফলে এ জমিগুলো আরএসএ রেকর্ডভুক্ত হয়নি। স্থানীয়রা জানান, এনায়েতপুর মৌজার বসন্তপুর গ্রামের এসব জমি এক সময় পদ্মা নদীতে ছিল। পরবর্তীতে এসব জমি চর হয়ে জেগেছে। স্থানীয়রা বলেন, পদ্মায় ভাঙনের ফলে এ দাগগুলোর জমির মালিকরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তারা এসব জমির কোনো খোঁজখবর রাখেননি। এ সুযোগে আজিমনগর চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ও তার ভাই মুশারফ হোসেন মুশা জমিগুলো দখল করে মার্কেট নির্মাণের উদ্দেশ্যে সেগুলো ভরাট করছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরেও একইভাবে বসন্তপুরের এনায়েতপুর মৌজার আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাশের জমি অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে ভরাট করে ৪০/৪২টি দোকান বিক্রয় করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ও তার ভাই মোশারফ হোসেন মুশা। ১২ হাত দীর্ঘ ও ৮ হাত প্রশস্ত প্রত্যেক দোকানের পজিশন বিক্রি বাবদ ৬০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই। বসন্তপুর বাজারের দোকানদার আব্দুর রহিম, আব্দুল আজিজ, এনায়েত হোসেনসহ অনেকের কাছ থেকেই জানা গেল একই কথা। এছাড়া দোকানের জমি ভরাট করে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথাও জানালেন কেউ কেউ। জানা গেছে, কোনো দলিলপত্র ছাড়াই কেবল মৌখিকভাবে এসব জমি বিক্রি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ও তাদের দলবলের ভয়ে স্থানীয়রা এ বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
সরেজমিনে জেলার হরিরামপুরের আজিমনগর ইউনিয়নের বসন্তপুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, একটি ইরি ধানের জমিতে ড্রেজার বসিয়ে তার পাশেই আরেকটি জমি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। ভরাটকৃত জমি দোকান আকারে বিক্রয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ড্রেজারে বালি উত্তোলনের ফলে পাশের অন্যান্য কৃষি জমি ও কাঠ গাছের বাগান ভেঙে যাচ্ছে।
আজিমপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, আজিমপুর ইউনিয়ন পদ্মা নদীর গর্ভে ছিল। এখন চর জেগেছে। পদ্মা নদীর ভাঙনের পর এসব জমির মালিকরা এলাকা থেকে চলে গেছেন। তারা আর এ জমির খোঁজ নিতে আসেননি। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান যদি এসএ খতিয়ানে যারা মালিক তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন তাহলে তিনি জমি মাটি দিয়ে ভরাট করতে পারবেন। আর জমির মালিকরা অনুমতি না দিলে তিনি জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে বিক্রি করতে পারবেন না। যদি কোনো চুক্তিপত্র ছাড়া কেউ মার্কেট করে থাকে সে ক্ষেত্রে মার্কেটের মালিক সরকার হবে। সেক্ষেত্রে বর্তমান মার্কেটের দোকান মালিকদের পুনরায় সরকারের কাছ থেকে দোকানের জায়গা ক্রয় করতে হবে।
জমি ভরাট করে দোকান বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে আজিমনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। তার ভাই মোশারফ হোসেন মুশা জমি ভরাট করার স্বীকার করে বলেন, আমরা কামাল কাজীর কাছ থেকে ৮ একর জায়গা ক্রয় করেছি। ক্রয়কৃত জায়গা ভরাট করার সময় ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা পড়তে পারে। জায়গা ভরাট করতে ৫০ হাজার টাকা লেগেছে। আমরা ৫৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করবো। কিন্তু আজিমপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, উক্ত মার্কেটের জায়গায় কামাল কাজী নামে কোনো মালিকের নাম তার অফিসে নথিভুক্ত নেই।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পঙ্কজ ঘোষ জানান, যদি এসএ দাগের মালিকগণকে না পাওয়া যায় তবে এ সমস্ত জমি অন্য কেউ ভরাট করে বিক্রয় করতে পারবে না। তিনি বলেন, মালিকদের না পেলে জমিগুলো সরকারি আওতায় আনা হবে।