আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শাহরাস্তি পৌরসভার নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহুর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। যতই দিন যাচ্ছে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সমান তালে চলছে ভোট প্রর্থণা।
২৬ হাজার ৩৮ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থী বাছাই করতে হিসাব নিকাশ শুরু করেছেন। অনেক ভোটার মুখ না খুললেও তাদের পছন্দের প্রার্থী বাছাই করতে শেষ পর্যন্ত চুপ করে থাকার উপায় থাকছে না। প্রথম বারের মত দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় অনেকেই নৌকা, ধানের শীর্ষ নিয়ে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। এবারের নির্বাচনে কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় ভোটারা তাদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে বেগ পেতে হবে না।
এদিকে পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী মো. মোস্তফা কামাল ও হাজী আ. লতিফ দিন রাত ভোট প্রার্থণা করে চলছেন। প্রতিদিন তারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে ভোটারদের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাজী আবদুল লতিফের সমর্থনে ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী (দুলাল) প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সঠগঠনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত 'ধানের শীষ' প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. মোস্তফা কামালের সমর্থনে ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়াও উপজেলা বিএনপির ও সহযোগি সঠগঠনের নেতৃবৃন্দ সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একজোট হয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপর দিকে ১২টি ওয়ার্ডে ৪৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী অবিরাম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলমতের উর্ধ্বে উঠে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন উপায়ে ভোট প্রার্থণা করে চলছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলের চেয়ে ব্যক্তি হিসেবেই মূল্যায়ন করছে ভোটাররা।
পৌরসভার ৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর পদে লড়াই করছেন ১১ জন প্রার্থী। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মত সমান তালে তারাও চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থণা করছেন। ভোটারদের মন জয় করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ভোটাররা বলছেন, প্রচারণার শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, শেষ পর্যন্ত যেন শাহরাস্তির ঐতিহ্য বজায় থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।