চট্টগ্রামে মায়ের প্রেমিককে খুনের পর লাশ দশ টুকরা করে নদীতে ফেলে দেয় এক যুবক। রোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে মাত্র ১৯ বছর বয়সী এক গার্মেন্টস কর্মী আরিফুল ইসলাম। আরিফুলকে গত শুক্রবার বিকালে নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা থেকে আটক করে ইপিজেড থানা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সে জানায়, চোখের সামনে অনৈতিক এ সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে মায়ের প্রেমিককে খুনের সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে গতকাল শনিবার সিএমপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকে নগর পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫/৬ বছর আগে আরিফের মায়ের সঙ্গে লাইটারেজ জাহাজের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মহসিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু ব্যাপারটা কখনোই মেনে নিতে পারেনি আরিফ। গত ১৫ জানুয়ারি আরিফদের বাসায় বেড়াতে আসে মহসিন। এসময় আরিফকে মিথ্যা বাহানায় বাসার বাইরে পাঠিয়ে দেয় তার মা। তবে আরিফ বিষয়টি আঁচ করতে পারে। তাই দূরে কোথাও না গিয়ে বাসার কাছাকাছি অবস্থান করতে থাকে। এক পর্যায়ে হঠাত্ বাসায় ফিরে এসে মহসিনের সঙ্গে নিজের মাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। এতে মাথায় খুন চেপে যায় আরিফের। কিন্তু তখনই কিছু না করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। বিকালের দিকে মা বাইরে চলে যায়। এসময় মহসিন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। সুযোগ কাজে লাগাতে রুমে প্রবেশ করে আরিফ। মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মহসিনকে। খুনের পর খাটের নিচে লাশ রেখে দেয়া হয়। দুইদিন পর বাজার থেকে একটি করাত ও চারটি ব্যাগ কিনে আনে আরিফ। মা বাসার বাইরে যাওয়ার পর মহসিনের লাশ কেটে ১০ টুকরা করে চারটি ব্যাগের মধ্যে রাখে। এরপর দু’টি ব্যাগ কর্ণফুলি নদীতে আর বাকি দু’টি সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় একটি বড় নালায় ফেলে দেয়। বুক থেকে নাভি পর্যন্ত ফেলা হয় হালিশহর থানার আনন্দবাজার এলাকায় নদীর পাড়ে। হাত-পা ফেলে দেয়া হয় একই এলাকায় আরেকটি বড় নালায়।
১৮ জানুয়ারি হালিশহর থানা পুলিশ আনন্দবাজার এলাকা থেকে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত উদ্ধার করে। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ২১ জানুয়ারি মহসিনের ভাই ও স্ত্রী ঢাকা থেকে এসে ইপিজেড থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন এবং এক নারীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক থাকার বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেন। পুলিশ আরিফুলের মাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, আরিফুলের মায়ের সঙ্গে মহসিনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। দিনের পর দিন চোখের সামনে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি দেখে আরিফুলের মধ্যে খুনের নেশা জাগে এবং এক পর্যায়ে মহসিনকে নৃশংসভাবে খুন করে।