পাবনায় মহাসড়কে চলছে নছিমন করিমন

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাবনার সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমন অবাধে চলাচল করছে। অবৈধ এ যান দুটির কারণে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে। অবৈধ এ যানবাহনগুলোর চলাচলের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না বলে অনেকের অভিযোগ।
 
পাবনা জেলার সর্বত্র বিশেষ করে সাঁথিয়া, কাশিনাথপুর, দাশুরিয়া, আটঘরিয়া, আতাইকুলা, আমিনপুর, বেড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুরে নসিমন-করিমনসহ ইঞ্জিনচালিত ট্রলিগুলো চলাচল করে সবচেয়ে বেশি। এগুলোর অবাধ চলাচলের কারণে নিয়মিতভাবে ঘটে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। এগুলোর নির্মাণজনিত ত্রুটি ও চালকদের অদক্ষতাই দুর্ঘটনার জন্য মূলত দায়ী।
 
পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা ও কাশীনাথপুর বাসস্ট্যান্ড মহাসড়ক ধরে অবাধে চলছে নসিমন ও করিমন। দুই বাসস্ট্যান্ডে ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি ব্যস্ত রয়েছে সেগুলোর চালকদের কাছ থেকে টাকা তোলায়। বেশ কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারা টাকা তুলছে তাদেরকে মাস্টার বলা হয়। মাস্টাররা প্রতিটি নসিমন-করিমন থেকে পুলিশের কথা বলে মাসিক ২শ থেকে ৩শ টাকা ছাড়াও প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ টাকা করে নেয়। কাশিনাথপুর বাসস্ট্যান্ডে টাকা তোলার সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাস্টার জানান, তারা নসিমন-করিমনগুলোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজ করেন। এজন্য নসিমনপ্রতি দৈনিক ১০ টাকা করে নেয়া হয়। কয়েকজন মাস্টার জানান, যে টাকা তোলা হয় তার একটা মোটা অংশ পুলিশকে দেওয়া হয়। বাকিটা তারা পারিশ্রমিক হিসাবে নেন।
 
এদিকে নসিমন-করিমনসহ ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানগুলোর চলাচল বন্ধের দাবিতে পাবনা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি, মোটর মালিক গ্রুপ, ট্রাক মালিক গ্রুপ ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন একাধিকবার আন্দোলন ও পরিবহন ধর্মঘট করেছে। পাবনা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, পাবনার মতো এতো ব্যাপক পরিমাণ নসিমন-করিমন আর কোথাও চলে বলে তার জানা নেই। পুরো জেলায় যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে তার বেশির ভাগ অবৈধ এ যানবাহনগুলোর কারণে।
 
পাবনার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর বলেন, নসিমন-করিমন চলাচলের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময়ই তত্পর। তিনি নিজেও এগুলোর বিরুদ্ধে কয়েকবার অভিযানে নেমেছেন। ভবিষ্যতেও অভিযান চলবে। আর পুলিশের নাম করে টাকা তোলার ব্যাপারটি তার জানা নেই।