বুড়িগঙ্গা-তুরাগ নদীর তীর উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান

বুড়িগঙ্গা-তুরাগ নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১৭তম দিনের মতো এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৫৭টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ বলছে, ১৮তম দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে মোহাম্মাদপুরের রামচন্দ্রপুর এলাকা ও তুরাগ নদীর বিপরীত পাশে অভিযান চলবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম-পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন জানান, মোহাম্মাদপুরের ঢাকা উদ্যান ও রামচন্দ্রপুর এলাকায় এবং বিপরীত পাশে সাভারের বরদেশী মৌজায় তুরাগ নদীর তীরভূমিতে সিলিকন সিটি হাউজিং, আকাশ নীলা ওয়েস্টার্ন সিটি লিমিটেড, অনির্বাণ ও তুরাগ হাউজিং এলাকায় ৫৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে এক তলা ১৩টি, দোতলা একটি, তিন তলা একটি, চার তলা একটিসহ ১৬টি পাকা ভবন, আধাপাকা ১০টি এবং বাউন্ডারি ওয়াল ৩১টি। এসব দখলদারদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়সহ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে মঙ্গলবার মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় ৫৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ। এসব স্থাপনার মধ্যে একটি চারতলা, দুটি তিনতলা, পাঁচটি দোতলা ও ছয়টি একতলা ভবন রয়েছে।

২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক বৈঠকে ঢাকার চারপাশের নদী ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দূষণ বন্ধ ও নাব্য ফিরিয়ে এনে নদী রক্ষায় টাস্কফোর্স গঠন করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি সংসদে বলেন, নদী তীরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ঠেকাতে কারও প্রভাবই খাটবে না। বিআইডব্লিউটিএ যে অভিযান শুরু করেছে, তা অব্যাহত থাকবে।