যশোরের গাড়িখানা সড়কের ৪০ পরিবারকে উচ্ছেদের পর এবার জেলা ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) অফিস দখল করেছে পুলিশ।
জেলা প্রাশসন থেকে বরাদ্দ নেয়া ‘বিরোধপূর্ণ’ ওই জমি থেকে অফিসটি উচ্ছেদ করে পুলিশ। এর আগে পুলিশ অব্যাহত হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই জমি থেকে ৪০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে দেয়। তবে ‘বিরোধপূর্ণ’ এই জমিটি নিয়ে জেলা প্রশাসন আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ন্যাপের জেলা সভাপতি মাস্টার নূর জালাল জানান, যশোরে গাড়িখানা রোডে সংগঠনটির জেলা অফিস রয়েছে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে। কিন্তু পুলিশ কোনো নোটিস বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জেলা ন্যাপ অফিস দখল করে নিয়েছে। পুলিশের এই দখল প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ন্যাপ যশোর জেলা সভাপতি মাস্টার নূর জালাল ও সম্পাদক নাজিম উদ্দিন অবিলম্বে তাদের অফিস ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে যশোর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ সুপার মীর শাফিন মাহমুদ জানান, ওই অফিসের পক্ষে তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। কাগজপত্র দেখালে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে এর আগে বিরোধপূর্ণ ওই জমি থেকে ৪০টি পরিবার ও ৭-৮ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করেছে পুলিশ। উচ্ছেদের শিকার ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ১৯১০ সালে শহরের গাড়িখানা রোড এলাকার সরকারি জমি বরাদ্দ নিয়ে পরিবারগুলো বংশানুক্রমে ভোগ দখল করে আসছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ দেয়া জমিটি নিজেদের দাবি করে আসছে পুলিশ। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। কিন্তু হঠাৎ করেই পুলিশ তৎপর হয়ে ‘গায়ের জোরে’ ওই জমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ শুরু করে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
তবে এ জমিটির ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই জমির ব্যাপারে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সে ব্যাপারে মতামত চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসাদুল হক। জেলা প্রশাসকের মতামতের পরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিতে রাজী হননি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসাদুল হক। আর এ ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।