প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, উয়ারী-বটেশ্বর বাঙ্গালির হাজার বছরের ধারণাকে বদলে দিয়েছে। উন্মোচিত করেছে বাঙ্গালির হাজার হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। ভারত সবসময়ই আমাদের সঙ্গে ছিল এবং রয়েছে। আমরা সব সময়ই হাত মিলিয়ে চলে আসছি।
মঙ্গলবার সকালে নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরে পঞ্চদশতম খনন কাজের উদ্বোধন এবং দুপুরে ভারতীয় হাই কমিশনের অর্থ সাহায্যে নরসিংদী সদর উপজেলার পাচঁদোনায় পবিত্র কোরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি সংরক্ষণ ও জাদুঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
উয়ারী-বটেশ্বরে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে সব কিছু হয়না। সকল সফলতার মূলেই থাকে আন্তরিকতা।টাকা দিয়ে যদি সব কাজ হতো তবে ড. সুফি মোস্তাফিজ উয়ারী-বটেশ্বরের খনন কাজ করতে পারতেন না। তার আন্তরিকতা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই উয়ারী বটেশ্বর আজ দেশ তথা সারা বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে।
উয়ারী-বটেশ্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিবপুরের এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, নরসিংদীর এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) জসীম উদ্দীন হায়দার, শিবপুরের ইউএনও মো. আশরাফুল আফসার প্রমুখ।
ভারতীয় হাই কমিশনের অর্থ সাহায্যে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ির জাদুঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন নরসিংদীর এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) জসীম উদ্দীন হায়দার, ভারতীয় হাইকমিশনের ফাস্ট সেক্রেটারি গিনি উকা, নরসিংদী সদরের ইউএনও মো. মোতাকাব্বির আহমেদ এবং ভারতীয় হাইকমিশনের এ্যাটাচে ভিপিন তমার। সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নুহ উল আলম লেলিন।
ড. গওহর রিজভী বলেন, আজ ইতিহাসের একটি বড় দিন। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শন গিরিশ চন্দ্রের বাড়ি সংরক্ষণে জাদুঘর নির্মিত হচ্ছে। এটি একটি সঠিক পদক্ষেপ। না হলে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি মাটিতে মিশে যেতো। এদেশে ইসলাম এসেছে বহু পূর্বে। কিন্তু পবিত্র কোরআন শরিফের বাংলা অনুবাদ করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন পবিত্র কোরআনের বাংলা অনুবাদ করে বাঙ্গালি তথা বাঙ্গালি মুসলমানদের প্রথম কোরআনের মর্মার্থ বুঝার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।