দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন (যাত্রী পারাপার) কার্যক্রম চালু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই ইমিগ্রেশন সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আশরাফুল আলম পাটোয়ারীর নেতৃত্বে ৩৫ জনের বাংলাদেশি একটি প্রতিনিধি দল এই স্থলবন্দর দিয়ে ভ্রমণের জন্য ভারতে যান। এসময় হাজার হাজার মানুষ স্থলবন্দর এলাকায় ভিড় করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালুর ফলে ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক জোরদার হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে যুগান্তকারী পরিবর্তনসহ পর্যটনের ক্ষেত্রে অভাবনীয় বিকাশ ঘটবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যোগ্য নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্কের যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে তা উত্তোরোত্তর আরো বাড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় পক্ষে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ড. বিজয় কুমার সিং। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম, তাই বাংলাদেশের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা রয়েছে। তিনি বলেন, এ বন্দর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মৈত্রী, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা-সংস্কৃতি চিকিত্সাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় দেশই লাভবান হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খাঁন, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, ভারতের দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য সুরিন্দর সিং আলুআলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স মিনিস্টার ফিরহাদ হাকিম ও ডেভেলপম্যান্ট ডিপার্টমেন্ট মিনিস্টার গৌতম দেব বক্তব্য রাখেন।
এসময় পঞ্চগড়-১ এর সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোয়াজ্জেম আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সালাহ উদ্দিনসহ নৌ পরিবহন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং কাস্টমস-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন সুবিধা চালুর পর পঞ্চগড়ের লোকজনের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। গতকাল ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে আনন্দ-উত্সব করেছে পঞ্চগড়বাসী। বিতরণ করা হয়েছে মিষ্টি।
প্রসঙ্গত, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরই দেশের একমাত্র চার দেশীয় চেকপোস্ট। যেখান দিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান- এ চারটি দেশে সড়ক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ সহজেই সম্ভব হবে। এতে চার দেশই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে সংযোগ হওয়ার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে।