গাজীপুর সিটির দুই কাউন্সিলর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৮

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সরকার দলীয় দুই কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ৩টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।  এতে এক কাউন্সিলরসহ অন্তত ৮জন আহত হয়।
 
শুক্রবার রাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কামারজুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি গুলির খোসা উদ্ধার এবং ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
 
হামলায় আহত গাজীপুর ৩৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সানাউর রহমানকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
 
আহত কাউন্সিলর মো. সানাউর রহমান জানান, ওই এলাকার সাহেব বাড়ি থেকে মোল্লা মার্কেট পর্যন্ত সড়কের সলিংয়ের কাজ করার সময় স্থানীয় সন্ত্রাসী সোহরাব বাধা দেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় তিনি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোহরাবসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
 
বৃহস্পতিবার সোহরাব ছাড়া বাকী ২১ আসামি গাজীপুরের আদালতে জামিনের আবেদন করেন। এসময় আদালত আসামি জিল্লুর, মজিদ ও আশিকের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন। জামিন নিয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় সোহরাবের নেতৃত্বে তার সহযোগিরা ৩৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং অফিসের আসবাবপত্র, ল্যাপটপ ভাংচুর করে। তারা পার্শ্ববর্তী সাবেক মেম্বার সফিউল্লাহ ও এমদাদুলের বাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। 
এ ব্যাপারে তিনি শুক্রবার দুপুরে জয়দেবপুর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। 
 
তিনি আরো জানান, রাত সাড়ে সাতটার দিকে তিনি ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী কাথোরা যাবার পথে কামারজুরি এলাকায় পৌঁছলে ৩৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডলের উপস্থিতিতে মামুন মন্ডলের সমর্থকরা তার মাইক্রোবাস গতিরোধ করে হকিষ্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। তাকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনিসহ তার নাতি মোর্শেদ আলম ও গাড়ির চালক বকুল আহত হন। তিনি জানান, হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষন করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে।
 
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর মামুন মন্ডল জানান, রাস্তাটি একপাশ দিয়ে বর্ধিত করা হচ্ছিল। ক্ষতিগ্রস্থরা এতে বাধা দিলে স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্থরা দলীয় লোকজন নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস দেন। 
তিনি আরো জানান, স্থানীয় উজারপাড়ার একটি স্কুলের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সন্ধ্যায় কামারজুড়ি পৌঁছলে কাউন্সিলর মোঃ সানাউর রহমানের সমর্থকরা তার সাথে থাকা লোকজনের উপর হামলা করে এবং তিনটি মোটরইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলায় তার সমর্থক লিটন, রুহুল, ফেরদৌস, বাবু, নবীন ও জসিম আহত হয়।
 
জয়দেবপুর থানার ভোগড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. জাকির হোসেন জানান, রাস্তা নির্মাণ ও মামলার জেরে দুই কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৪ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মিঠু শেখ জানান, দুই কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৭জন কে আটক করা হয়েছে।