দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ৬ কিলোমিটার উত্তরের একটি গ্রামে জ্বালানি তেল কেরোসিন খনি'র সন্ধান পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেরপুর বুনুয়ার ডাঙ্গায় নলকুপের পাইপ বসানোর সময় মাটির ৩৬ ফুট গভীরে এই জ্বালানি তেলের সন্ধান পাওয়া যায় গত শনিবার দুপুরে।
জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের শেরপুর বুনুয়ার ডাঙ্গা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য খাতিজার রহমানের বাড়ীতে পুরাতন একটি নলকুপের বোরিং মেরামত করতে গিয়ে নলকুপ মিস্ত্রিরা এর সন্ধান পান। নলকুপের পাইপ দিয়ে তেল বের হওয়ার খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তা শতশত উৎসুক মানুষ সেখানে ভীড় করছে।
খাতিজার তার বাড়িতে ১১০ ফুট গভীরতায় একটি ৪ ইঞ্চি বোরিং করে সাবমারসেল (ভূ-গর্ভে পানির নিচে বসানো পাম্প) বসান। বছর খানিক সেখান থেকে ভাল পানীয়জল পাওয়া যায়। এরপর সাবমারসেলটি পুড়ে যায়। পরবর্তীতে কয়েকদফা নতুন সাবমারসেল বসানো হয়। কিন্তু প্রতিটি সাবমারসেল ৬ মাসের মাথায় নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, পরে ওই বোরিং এর মধ্যে দেড় ইঞ্চি পাইপ প্রবেশ করিয়ে নলকুপের সাহায্যে পানি উত্তোলন করা হয়। কিন্তু ওই নলকুপ থেকে কিছু দিন ভাল পানি পাওয়ার পর লাল ঘোলাটে পানি বের হতে থাকে।
পাবর্তীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে জ্বালানী তেল পরীক্ষা ও নির্ণয় করার জন্য বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। কয়লা খনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পর তারা এসে পরীক্ষা করার জন্য সেখান থেকে নমুনা নিয়ে গেছে। পরীক্ষার পর জানা যাবে সেখানে পানির সাথে জ্বালানী তেল না অন্য কিছু বের হচ্ছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।