গাজীপুরের কালীগঞ্জে লড়ি চাপায় চাঁন মিয়া (৬০) নামের এক চা বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পৌর এলাকার কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের আড়িখোলাতে এ ঘটনা ঘটে।
চাঁন মিয়া উপজেলার তুমলিয়া গ্রামের মৃত সরাফত আলীর ছেলে। তিনি ওই সড়কের পাশে চায়ের ব্যবসা করতেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনার পর পর রাস্তায় নেমে ওই সড়কে লড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা ৩০-৪০টি লড়ির গতিরোধ করে কালীগঞ্জ শ্রমিক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে আটক করে রাখে।
নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, টঙ্গীর দিক থেকে আসা অতি দ্রুতগামির একটি লড়ি কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের আড়িখোলায় রাস্তা পারাপারের সময় তার বাবাকে চাপা দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আওরঙ্গজেব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর পর স্থানীয়রা কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কে নেমে পড়ে। এতে কালীগঞ্জ-টঙ্গী ও কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি লড়ি আটক করে রাখে।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলায় অবৈধ এ লড়ি চলাচলের কারণে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক প্রাণহানি হয়েছে। আর পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে প্রায় শতাধিক। কিন্তু সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতা-কর্মীরা প্রাশসনের কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে চালাচ্ছে এই অবৈধ লড়ি।
স্থানীয়দের দাবি, স্থানীয় সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির হস্তক্ষেপে অনতি বিলম্বে অবৈধ এ লড়ি চলাচল বন্ধ হবে।
কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।