কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বাল্য বিয়ে বন্ধে এক সময় জিহাদ ঘোষণা করেন। এ সময় প্রশাসন একের পর এক ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বাল্য বিয়ের সঙ্গে জড়িত বর-কনে, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ঘটক, কাজী ও মাওলানাদের শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে বাল্য বিয়ের প্রবণতা অনেকটা শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনেন। সম্প্রতি এ উপজেলায় কাজী ব্যাতিরেকে রেজিষ্ট্রি ছাড়াই শুধু কতিপয় অর্থলোভী মৌলানা ডেকে অতি গোপনে বাল্য বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
একদিকে বাল্য বিয়ে দিয়ে যেমন রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে, অন্যদিকে রেজিষ্ট্রি ছাড়া বিয়ে দেওয়ার কারনে সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের গেটপাড়া গ্রামে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পিতা-মাতার মতামত ছাড়াই গভীর রাতে খালুর প্ররোচনায় স্কুলছাত্রী তমা খাতুনের (১৪) বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়। সে ওই গ্রামের তাজউদ্দিনের মেয়ে ও ফুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী। গভীর রাতে ওই স্কুলছাত্রী তার পিতা-মাতার মতামতকে উপেক্ষা করে গেটপাড়া জামে মসজিদের ইমাম উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা খাইরুল ইসলাম নিজ বাড়ীতে এ বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করে। বাল্যবিয়ের পাত্র ফুলবাড়ীয়া গ্রামের করেশ আলী মোল্লার ছেলে খোকন।
সূত্র জানায়, রেজিষ্টার্ড কাজী ছাড়াই মাওঃ খাইরুল ইসলাম মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এ বিয়ে সম্পন্ন করে। মেয়েকে বাল্য বিয়ে দিতে না চাওয়ায় স্কুলছাত্রীর পিতা তাজউদ্দিনকে তার ভাইরা নূরুল ইসলাম মল্লিকের ছেলে আব্দুর রহিম বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত আহত করে। এ ঘটনায় ক্ষোভে,দুঃখে অভিমানে গ্রাম ছেড়ে চলে যান।
এখানেই শেষ নয়, কাজী ছাড়াই অভিযুক্ত মাওঃ খাইরুল ইসলামের মাধ্যমে একই গ্রামের কোরবান আলী ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে আসমা খাতুন ও সাদেক আলীর নবম শ্রেনী পড়ুয়া মেয়ে জলপরীর বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাওঃ খাইরুল ইসলাম নিজে এ বিবাহের কাজ সম্পন্ন করেন নাই বলে দাবী করেন। এ ব্যাপারে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক কাজী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিনিধির কাছে ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করেন। তারা বলেন, আমরা এক সময় সমাজের বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে এক দুইটা বাল্য দিলে প্রশাসন ও মিডিয়া আমাদের উপর যে হারে খড়গহস্ত হতো এখন রেজিষ্ট্রি ছাড়াই কতিপয় মৌলানা একের পর এক বাল্য বিয়ে সম্পাদন করে চললেও প্রশাসন ও মিডিয়া নীরব কেন?