জাতীয় দিবসগুলোতে ঘটা করে বাঁশখালীতে প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালিত হয়। কিন্তু জাতীয় দিবসের মর্ম অর্থ ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে বুঝানোর যে প্রধান হাতিয়ার জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনারের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রর্দশন হয় না। শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক দিলে তা রাতেই চুরি হয়ে যায়। ভোর হলে একটা ফুলও শহীদ মিনারে দেখা যায় না। কোন্ দিবসে জাতীয় পতাকা কিভাবে টাঙাতে হবে তা কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। গত রবিবার ২১ ফেব্রুয়ারিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা ডাকঘরসহ অধিকাংশ দোকানপাটে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে টাঙানো হয়নি। প্রত্যেক জায়গায় পূর্ণভাবে টাঙানো হয়েছে। তা ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি বাঁশের ছোট একটি টুকরায় জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে।
বাঁশখালীর কয়েকটা স্কুল, মাদ্রাসা ছাড়া অধিকাংশ স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে জাতীয় দিবস পালন করা হয়নি। এমনকি অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকাও দেয়া হয়নি। বাঁশখালী উপজেলা সদরের বাঁশখালী আলাওল ডিগ্রি কলেজে দেখা গেছে পিওনের টাঙানো জাতীয় পতাকা দিয়ে জাতীয় দিবস স্মরণ কাজ শেষ করেছে। কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচি ছিল না। একই অবস্থা অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তবে ব্যতিক্রম অবস্থা দেখা গেছে, জামায়াত-শিবির পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রিত অধিকাংশ স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগুলোতে। মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস পালন করেছে খুব ঘটা করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক, উপজেলা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার বিদ্যা চরণ চৌধুরী ও উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির সুকলাল মিত্র দাবি করেন জাতীয় পতাকা পূর্ণভাবে উত্তোলন করেছেন অফিসের পিওন। তাদের জানা ছিল না শহীদ দিবসে অর্ধনমিত করতে হয়। তাই ভুলবশত করেছে।
জাতীয় পতাকার অবমাননা তদারকি উপ-কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বিভিন্ন সরকারি অফিসে গিয়ে শুধু পতাকাটাই দেখেছি। সবকিছু তালা বন্ধ। কর্মকর্তারা ছুটিতে, পিওনরা না বুঝে এই কাজ করেছে বলে জানালে, আমি কয়েকটা অফিসে পিওনকে ধমক দিয়েছি। এ ছাড়া আমার করার কী আছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল হোসেন বলেন, ‘আমার নিয়ন্ত্রিত প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদায় শহীদ দিবস পালনের নির্দেশনা দিয়েছিলাম শিক্ষকদের। কম-বেশি পালনও হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘তদারকির অভাবে হয়তো কিছুটা ত্রুটি হয়েছে। যারা এসব কাজে জড়িত তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।