ব্যাংক ও আর্থিক খাত এখন বিপদের মুখে :অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত এখন সবচেয়ে বিপদের মুখোমুখি বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই কম বেশি দুর্নীতি রয়েছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এই মুহূর্তে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বিপদের মুখে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেল অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৯ এ তিনি এসব কথা বলেন।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা বন্ড মার্কেটকে ডেভেলপ করতে পারি তবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা হবে। সর্বপ্রথম প্রাণকে দিয়েই  বন্ডের বিনিয়োগ শুরু করার কথা জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার পরামর্শ দেন। এছাড়া দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেউলিয়া আইন যুগোপযোগী করার ওপর জোর দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন দেউলিয়া আইনটি করা আমাদের জন্য খুবই জরুরি। যত দ্রুত সম্ভব এটা করা হবে। পৃথিবীতে এমন কোনো ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দেউলিয়া আইন নেই।

দেশের উন্নয়নের করের পরিধি আরো বাড়াতে হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দেশে যারা ট্যাক্স প্রদান করে তারাই বারবার ট্যাক্স প্রদান করে আসছেন। কিন্তু নতুন করে করের আওতায় আসার উপযোগী অনেক মানুষ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না। তাই আগামী বাজেটে আমি এই অপবাদ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে চাই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের প্রতিটি পরিবার থেকে আগামী বাজেটে একজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশ্বাসও দেন অর্থমন্ত্রী। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে কোনো গরীব লোক থাকবে না বলেও জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, প্রকৌশলগত দিক থেকে সারা বিশ্ব খুব দ্রুত গতিতে আগাচ্ছে। বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে সেই প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে হবে। তা না হলে অন্যরা এগিয়ে যাবে এবং অলসরা আগের জায়গাতেই পড়ে থাকবে। সেজন্য ব্যাংকের সকল কর্মকর্তার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ২০১৮ সালে বিভিন্ন সূচকে উন্নয়নে অগ্রণী ব্যাংকের প্রশংসা করে গভর্নর বলেন, অনেক খাতে উন্নয়ন হলেও ব্যাংকটি ২০১৮ সাল শেষে ৮৮৩ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এছাড়া বর্তমানে ব্যাংকটির যে খেলাপি তা আরও কম হতে পারতো। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। তিনি খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার ও ব্যাংকের সব পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিতেরও তাগিদ দেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের ভিতরে যেসব সমস্যা আছে তার সমাধান আপনারাই করতে পারেন। কারণ এটা নিয়ে আপনারা সবসময় কাজ করেন। এজন্য আপনারা নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করুন। তাহলে আমার মনে হয় সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। এছাড়া আর্থিক বিভাগের পক্ষ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা করা দরকার তা করতে আমরা প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকটির সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম। তিনি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন,  ২০১৮ সাল শেষে অগ্রণী ব্যাংকের  আমানত দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। এ সময় ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৩ হাজার ৫৫১ কোটি ও ৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। রেমিট্যান্স এসেছে ১২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার। এছাড়া ২০১৮ সালে ব্যাংকটি ৯৫৭ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে মোট ১৬ জন গুণী গ্রাহককে সম্মাননা প্রদান করা হয়।