ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা আর বোলারদের অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে বাংলাদেশি ফাস্ট বোলারদের ব্যর্থতা নিয়ে সেভাবে আলোচনা হচ্ছে না। অথচ নিউজিল্যান্ডে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে বেশি ভোগাচ্ছে এই নখদন্তহীন বোলিং। দুই টেস্টে বাংলাদেশের বোলাররা সাকুল্যে নিউজিল্যান্ডের ১২টি উইকেট ফেলতে পেরেছেন। বিপরীতে বাংলাদেশের ৪০টি উইকেটেরই পতন হয়েছে দুই টেস্টে।
এই ব্যাপারটাই গড়ে দিচ্ছে বিরাট ব্যবধান। ওয়েলিংটনে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন আবু জায়েদ রাহি। তিনি স্বীকার করছেন, তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করার কোনো বিকল্প নেই। তবে নিজেরা ভালো পারফরম্যান্স করার চেয়েও দলের ভালো ফলাফল আনাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগামীকাল ভোর ৪টায় ক্রাইস্টচার্চে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় ও শেষ টেস্ট।
গত টেস্টে নিজের পারফরম্যান্স একেবারে খারাপ নয়। তারপরও রাহির সামনে সেই পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বললেন, দল এই সাথে ভালো করলে তার এই পারফরম্যান্সের মূল্য থাকতো, ‘আসলে আমাদের নিজেদের পারফরম্যান্স থেকেও ফলাফলটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দল যদি ফলাফল পেতো আরও বেশি ভালো লাগতো।’
তবে বোলার হিসেবে রাহি অন্তত উন্নতি করছেন বলেই তার ধারণা। এই কন্ডিশনে এসে তার একটা আত্মবিশ্বাস অন্তত তৈরি হয়েছে। এখানে বল অনেক বেশি সুইং করাতে পারছেন। তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন যে, তার বল খেলতে ব্যাটসম্যানদের একটু হলেও কষ্ট করতে হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে রাহি বলছিলেন, ‘এখনও একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমার নিজের প্রতি বিশ্বাসটি জন্মিয়েছে যে এখন বল সুইং করাতে পারি। আসলে আন্তর্জাতিক ব্যাটসম্যানদের বলটি খেলতে একটু কষ্ট করতে হচ্ছে। নিজের মধ্যে বিশ্বাসটি বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
পুরো সিরিজ জুড়ে বাংলাদেশি বোলারদের আবার ভুগিয়েছেন ফিল্ডাররা। গত টেস্টেই রাহির বলে একাধিক ক্যাচ পড়েছে। তা না হলে হয়তো তার বোলিং ফিগারটা আরেকটু দর্শনীয় হতো। রাহি এটাকে খেলার অংশ হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। তিনি বলছিলেন, ‘ক্যাচ সবারই মিস হয়, সেটা স্বাভাবিক। হয়তো বা যে দুটি ক্যাচ মিস হয়ে গিয়েছে সেটা কপালে ছিল না। এভাবেই আসলে নিয়েছি ব্যাপারটা।’
রাহির বলে যে বেশি সুইং হচ্ছে, এটা নিয়ে তিনি কাজও করছেন। সেই সাথে এই তরুণ ফাস্ট বোলার বলছিলেন, টিম সাউদির কাছ থেকে তিনি ‘বাবল বল’ ব্যাপারটা এই সফর থেকে শিখে যেতে চান। সেই ব্যাপারটা নিয়ে রাহি বলছিলেন, ‘ওয়ালশের সাথে আজকে কথা বলেছিলাম। এই জায়গায় কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। কারণ এই জায়গায় সুইং আরেকটু বেশি পাচ্ছি বাংলাদেশ থেকে। আমার মনে হয় একটু উন্নতি হচ্ছে। আর বাবল বল যেটিকে বলে যেটি সাউদি প্রায় করে-সেটি নিয়েও হালকা কাজ করছি। বলটি অনেক ক্রস সিমের মতো। বলটাতে অনেকটা আউটসুইংয়ের মতো গ্রিপ থাকে। বলটা পড়ে একটু ইনসুইং করে। এটা শেখার চেষ্টা করবো। ম্যাচের শেষে আমি বলেছি যে সাউদির সাথে একটু বসবো।’ আপাতত সাউদির কাছ থেকে টিপস নেবেন। তবে রাহির আদর্শ বোলার হলেন জেমস অ্যান্ডারসন। গতকাল তিনি বলছিলেন, এই ইংলিশ বোলারকেই ক্যারিয়ার জুড়ে অনুসরণ করে এসেছেন তিনি, ‘যখন থেকে আমি ক্রিকেট শুরু করি তখন থেকেই জেমস অ্যান্ডারসনের বলটা বা বোলিং অ্যাকশনটি আমি ফলো করি। আমার অ্যান্ডারসনের বোলিংই সব থেকে পছন্দ।’