হ্যামিল্টন,ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের পেসাররা ২২ গজে বিষিয়ে তুলেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জীবন। একই উইকেটে বিবর্ণ, নির্বিষ ছিল বাংলাদেশের পেসাররা। দুই ম্যাচে তিনজন করে পেসার ছিল বাংলাদেশের একাদশে। যদিও দুই টেস্টে তারা নিতে পেরেছেন মাত্র পাঁচ উইকেট!
সবুজ ঘাসের উইকেটেও অকার্যকর বাংলাদেশের পেসাররা। মুস্তাফিজুর রহমান, আবু জায়েদ রাহী, এবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদদের অনভিজ্ঞতা সেখানে বড় কারণ। শর্ট বলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টায়ও সফলতা পাননি তারা।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক হেড কোচ, দেশের ফাস্ট বোলারদের পিতৃতুল্য কোচ সরোয়ার ইমরান বলেছেন, নিউজিল্যান্ডে এবাদত-মুস্তাফিজরা সঠিক লেন্থে হিট করে বাউন্সার মারতে পারেননি। বেশি শর্ট থেকে বাউন্সার মারার চেষ্টা করেছেন। এসব তরুণের অনভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিদেশের মাটিতে পেসারদের এই ব্যর্থতার মিছিল থামাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে বলেছেন দেশের অভিষেক টেস্টের কোচ। তরুণদের উন্নতির জন্য জাতীয় ফাস্ট বোলিং একাডেমি করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক টেস্টের কোচ।
ওয়াগনার-সাউদিদের ক্রমাগত বাউন্সারে নাভিশ্বাস উঠেছিল মাহমুদউল্লাহদের। অথচ এবাদতদের বাউন্সার নিরীহ রূপেই ধরা দিয়েছিল। বাংলাদেশের পেসারদের বাউন্সার মারার চেষ্টায় লেন্থ ভুল ছিল জানিয়ে সরোয়ার ইমরান বলেছেন, ‘ওখানে জোরে বল করতে হয়। সুইং করাতে হয়। রাহী কিছুটা সুইং করিয়ে সফলতা পেয়েছে। বাকিরা ১৩০-৩৫ কি.মি.-তে বল করে গেছে। তারপর বাউন্সারের যে নিশানা এগুলোর অনেক ব্যাপার আছে। আমরা অনেক শর্ট থেকে বাউন্সার মারি। ওরা কিন্তু মোটামুটি শর্ট অব লেন্থ থেকে বাউন্সার করছে।’
দেশের মাটিতে যেই লেন্থ থেকে বাউন্সার মারেন পেসাররা, নিউজিল্যান্ডেও একই কাজ করেছেন মুস্তাফিজ-খালেদরা। সরোয়ার ইমরান বলেন, ‘আসলে ওই লেন্থ থেকে আসা বাউন্সারটা ওখানে কাজ হবে না। আমাদের এখানে উইকেটগুলোতে বাউন্সার অনেকগুলো উঠে আবার অনেকগুলো উঠে না। কিন্তু ওখানে ট্রু উইকেট, শর্ট-বাউন্সার মারলে উঠবেই বল। এমন জায়গা থেকে শর্ট মারতে হবে, যাতে ব্যাটসম্যানের অসুবিধা হয়। কিন্তু আমরা ওই জিনিসটা করতে পারিনি। আমরা বেশি অনেক শর্ট থেকে বাউন্সার মারছি, যেভাবে আমরা এখানে মারি।’
আর এমন বাউন্সি উইকেটে বোলিংয়ের চর্চা ঘরোয়া ক্রিকেটেই করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন সরোয়ার ইমরান। জাতীয় লিগ, বিসিএলে অন্তত একটি উইকেট এমন পেস, বাউন্সি করতে হবে। সেখানেই এ ধরনের উইকেটে বোলিংয়ের অনুশীলনটা হবে পেসারদের।
দুই বছর আগেও নিউজিল্যান্ড সফরে বল হাতে প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি বাংলাদেশের পেসাররা। সেবার টেস্ট খেলা শুভাশীষ রায়, কামরুল ইসলাম রাব্বিরা এখন জাতীয় দলে নেই। পেসারদের উন্নতির জন্য একাডেমি করে সারাবছর পরিচর্যা করতে হবে। না হয় এভাবেই একের পর এক পেসার আসবেন এবং কয়েক ম্যাচ খেলে হারিয়ে যাবেন।
পেস বোলিং বিশেষজ্ঞ সরোয়ার ইমরান বলেছেন, ‘আপনার শুরুতে দরকার একটা ন্যাশনাল ফাস্ট বোলিং একাডেমি। ওখানে আপনার ১৫-২০টা ফাস্ট বোলার থাকবে। যারা জাতীয় দল, ‘এ’ দল, এইচপি, অ-১৯ খেলবে। জাতীয় দলে যদি কখনো ঘাটতি হয় এখান থেকে ফাস্ট বোলার নিবে। ন্যাশনাল একাডেমিতে সারাবছর যদি এখানে কোচ, ট্রেনার, কম্পিউটার অ্যানালিস্ট থাকতে হবে।’
সঠিক পরিচর্যা, অনুশীলনের জন্য বিভিন্ন ধরনের উইকেট পেলে বাংলাদেশের পেসাররাও দেশের বাইরে টেস্টে দলের জন্য অবদান রাখতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন সরোয়ার ইমরান। তবে সেজন্য সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পেসারদের পরিচর্যা করার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।