নেপালের বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গশালা স্টেডিয়াম একতলা গ্যালারি হলেও দেখতে অনেকটা ঢাকার কমলাপুর স্টেডিয়ামের মতো। যেদিকটায় রোদ পড়েছে সেখানে ফাঁকা ছিল গ্যালারি। আর যেদিকটা একটু ছায়া ঘেরা সেদিকে দর্শক আসন নিয়েছে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু শহরের বাইরে নারী ফুটবলের নগরীতে পরিণত হওয়া বিরাটনগরের এই মাঠে প্রতিদিন দর্শক বাড়ছে।
বাংলাদেশ ভুটানের কালকের খেলায় প্রায় আড়াই হাজার দর্শকের উপস্থিতি ছিল অপ্রত্যাশিত। কারণ স্বাগতিক বলে নেপালের কিংবা ভারতের খেলা হলে বাড়তি আকর্ষণের কারণে দর্শক বাড়ে। সেই হিসাবে ভুটান এবং বাংলাদেশের খেলায় দর্শক একটু কমই হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলার নারী ফুটবলাররা যেভাবে সোনালি সূর্যের মতো উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছে তার আকর্ষণে নারী-পুরুষ দর্শক ছুটে গিয়েছিলেন রঙ্গশালার মাঠে।
তারা দেখেছেন সাবিনা, তহুরা, মারিয়া, মৌসুমী, সানজিদা, মনিকাদের ছন্দময় ফুটবল। তিন দলের ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ প্রথম খেলায় ২-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে। সহ-অধিনায়ক ইশরাত জাহান মৌসুমী এবং অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের গোলে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
পরপর দুই ম্যাচ হেরে সাফ থেকে বিদায় ভুটানের। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আগামীকাল বাংলাদেশ খেলবে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে।
সেমিফাইনাল নিশ্চিত হলেও বাংলাদেশ দলে বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। কারণ ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল বেশি গোলে জেতা। দলের অধিনায়ক সাবিনা খেলার আগে বলেছিলেন তাদের প্রথম লক্ষ্য ম্যাচ জয় তারপর গোল সংখ্যা বৃদ্ধি। জিতলেও গোল গড়ের হিসাবে নেপালের কাছে পিছিয়ে থাকল বাংলাদেশ।
ভুটানকে হারিয়েও দুশ্চিন্তাটা হচ্ছে বড় ব্যবধানে জিতলে আগামীকাল নেপালের বিপক্ষে ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারত। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দলকে পেত সেমিফাইনালে। আর যদি বাংলাদেশ গ্রুপ রানার্সআপ হয় তাহলে সেমিফাইনালে গত চারটি সাফের চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে খেলতে হবে।
ভারতকে ‘বি’ গ্রুপে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ধরে নিয়েছে বাংলাদেশ। ফাইনালের আগে ভারতের মুখোমুখি হতে চায়না বাংলাদেশ দল। সব হিসাব-নিকাশ উড়ে যাবে, যদি নেপালকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ড্র হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেপাল। কারণ প্রথম খেলায় নেপাল ৩-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে এগিয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ কাল ভালো খেললেও ভুটান গোল সংখ্যা বাড়াতে দেয়নি। তহুরা, মৌসুমীদের কড়া পাহারায় রেখেও প্রথমার্ধ কাটিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪৭ মিনিটে মনিকার কর্নারে মৌসুমী (১-০) এবং ৮৬ মিনিটে অধিনায়ক সাবিনা ভুটানের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে প্লেসিংয়ে গোল করেন (২-০)। সানজিদার বদলে খেলতে নামা তহুরা শেষদিকে ভুটানের জালে বল রাখলেও ভারতীয় শ্রীলঙ্কার রেফারির বাঁশি থামিয়ে দেয়।
খেলা শেষে সংবাদ মাধ্যমকে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বলেন,‘সেমিফাইনালে উঠায় খুশি। একটা ধাপ পেরিয়ে যেতে পেরেছি।’ ম্যাচের প্রথম গোলদাতা মৌসুমী দারুণ খুশি গোলটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম। এখন আমরা পরবর্তী ম্যাচের কথা ভাবছি।’ বাংলাদেশের খেলা প্রশংসা করে ভুটানের কোচ সুং জি লি বলেন,‘বাংলাদেশ খুবই ট্যাকটিকাল গেম খেলেছে। তাদের শক্তি এবং ষ্ট্যামিনা, স্পিড ভালো। খেলোয়াড়রা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছে।’
বাংলাদেশ : রূপনা চাকমা, শিউলী আজিম, সামসুন নাহার, আঁখি খাতুন, মাসুরা পারভিন, মনিকা চাকমা, সানজিদা আক্তার (তহুরা খাতুন, ৬৭), মিশরাত জাহান মৌসুমী, সিরাত জাহান স্বপ্না, সাবিনা খাতুন (অধিনায়ক), মারিয়া মান্ডা।