বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে নেপাল ম্যাচের আগে মদ্যপানের অভিযোগে অভিযুক্ত ফরোয়ার্ড জাহিদ হোসেন নিজের অপরাধ স্বীকার করে ন্যাশনাল টিমস কমিটির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত বাকি ছয় ফুটবলারও কমিটির কাছে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল টিমস কমিটির পাঠানো শোকজ নোটিশের জবাব দিতে আসেন অভিযুক্ত সাত ফুটবলার মামুনুল ইসলাম, জাহিদ হোসেন, সোহেল রানা, ইয়ামিন মুন্না, শহিদুল ইসলাম সোহেল, আতিকুর রহমান মিশু ও ইয়াসিন খান।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের কাছে অনুতপ্ত জাহিদ জানান, “আমি বলেছি, কাজটা যেভাবেই হোক করে ফেলেছি এবং এজন্য আমি অনুতপ্ত। আরও বলেছি, এই কাজের পুনরাবৃত্তি আর করব না। আমি ক্ষমা চেয়েছি।”
দলের প্রয়োজনের সময় বিপথে কেন পা বাড়াতে গেলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ বলেন, “যেটা হয়ে গেছে, তা নিয়ে আমি নিজেই ভীষণ কষ্টে আছি। আব্বা-মা সবসময় এটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করেন; কি হলো? কি হবে? এসব জানতে চান। এ নিয়ে আমি আর ভাবতে চাই না। ভুল করেছি; স্বীকার করেছি এবং ক্ষমাও চেয়েছি।”
সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ব্যর্থতার তদন্ত করে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস কমিটি সাত ফুটবলারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে প্রতিবেদন দেয়। সে অনুযায়ী ন্যাশনাল টিমস কমিটি ফুটবলারদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে ডেকেছিল।
তিন সদস্যের কমিটির মধ্যে শুনানিতে ছিলেন বাদল রায় ও আনোয়ারুল হক হেলাল। অপর সদস্য তাবিথ আউওয়াল ছিলেন না। শুনানির ফাঁকে বাইরে এসে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে বাদল রায় কথা বলতে রাজি হননি। সব প্রশ্নের জবাবে শুধু বলেন, “নো কমেন্টস।”
সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা মামুনুল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন কমিটির কাছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ ছিল না। শুধু অভিযোগ ছিল-আমি অধিনায়ক হিসেবে দলকে উজ্জীবিত করতে পারিনি। আমি বলেছি, আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। কোনো কারণে আমাদের খেলার ফল আশানুরূপ হয়নি কিন্তু আমি চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি।”
এদিকে গোলরক্ষক সোহেল বলেন, “মদ্যপান..এসব বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বলেছি, আমি ওসবের মধ্যে নেই। অন্যদের কথা আমি বলতে পারব না। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেছি, ওই সময় আমার শরীর ভালো ছিল না। এ কারণে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে, কিন্তু আমার চেষ্টার কমতি ছিল না।”