ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলে বাধাদানের অভিযোগগুলো বস্তাবন্দি করে রাখছে কমিশন। বৃহস্পতিবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে কোন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না।
একাধিক কমিশনার এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ন্যায্য-অন্যায্য কোন অভিযোগই আমরা গ্রহণ করছি না। কারণ আমরা যদি অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেই তাহলে অসংখ্য অভিযোগ আসতে শুরু করবে। এতে করে নির্বাচনের তফসিল বাধগ্রস্ত হতে পারে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা সন্ত্রাসীদের বাধার কারণে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি তারা আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে তাদেরকে উচ্চ আদালতে যাওয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, প্রার্থিতা দাখিল করতে না পারা অন্যায় আর তার প্রতিকার না পাওয়া মহা অন্যায়। সকলের আর্থিক সামর্থ্য নেই উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলা লড়ার। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এমন অনেক দরিদ্র প্রার্থী আছেন যারাঅনেকটা মানুষের টাকায় নির্বাচন করেন। প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। তবে প্রার্থীরা চাইলে ১১ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারতেন। কিন্তু রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন দেরিতে পাওয়ায় প্রায় সকল প্রার্থী শেষ দিন মনোনয়নপত্র দাখিল করতে যান। এই মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গিয়ে অসংখ্য স্থানে বাধা বিপত্তির ঘটনা ঘটে।
প্রভাবশালী এবং সরকার সমর্থকদের বাধার কারণে ৭০ টি ইউপিতে সরকার দলীয় প্রার্থী ছাড়া আর কোন দলের প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের ১১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। আরো ৩২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছে। সারাদেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১০২ জন প্রার্থী ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়ে গেছেন। আগামী ২ মার্চ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
এদিকে প্রার্থিতা দাখিলে বাধাদানের অসংখ্য অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে বলা হয়েছে, কোন কোন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে অনেক ন্যায্য অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা কোন অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত এবং কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশনারদের বৈঠকে তারা একমত হন যে, বাধার কারণে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি তাদের বিষয়ে কমিশন কিছুই করবে না। বাধাপ্রাপ্তদের মনোনয়পত্র গ্রহণের সুযোগ দেয়া হলে এ সুযোগ অনেকেই গ্রহণ করবে এই বিবেচনায় কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগ সম্পর্কে যদি কোন পদক্ষেপই গ্রহণ না করা হয় তাহলে অভিযোগ কেনই বা গ্রহণ করা হচ্ছে? গ্রামের মানুষরা প্রতিকার পাবে এই আশায় রাজধানীতে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনে এসে অভিযোগ দাখিল করেছেন। এখন যদি তারা কোন প্রতিকার না পান তাহলে হতাশা আরো বাড়বে। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের মত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে ৭০টির মত স্থানে একজনের বেশি প্রার্থী না থাকা নজিরবিহীন এবং সন্দেহজনক। কমিশনের উচিত ওইসব ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করে তদন্ত করা। তা না করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়বে এবং গ্রামের মানুষের নির্বাচনের প্রতি আস্থা চলে যাবে।