ঢোক গিলতে সমস্যা ও সমাধানে করণীয়

খাবার বা কোনো কিছু গিলতে অসুবিধা বোধ করাকে ডিসপেজিয়া বলে।
খাদ্যনালীর গঠনগত কারণ, স্নায়ু বা পেশিজনিত কারণ ও খাদ্যনালীর গঠনগত কারণে এ সমস্যা হতে পারে।
মুখ গহ্বরজনিত (জিহ্বার সমস্যা)
ল্যারিংস (শ্বাসনালী) ও ফ্যারিংস (গলবিল) বিভিন্ন সমস্যা
অন্ননালীজনিত কারণ
গলদেশের বিভিন্ন কারণ
 
মুখগহ্বরজনিত কারণ-
খাদ্যদ্রব্যের কোনোকিছু চোয়াল আটকে গেলে
মুখের প্রদাহ, টনসিলের ইনফেকশন, ঠোঁটের কোণায় আলসার
জিহ্বায় ঘা, জিহ্বায় ক্যান্সার
আক্কেল দাঁত ও অন্যান্য দাঁতের সমস্যা
মুখ গহ্বরের ভিতরে প্রদাহ
মুখ গহ্বর, মুখের তালুর টিউমার
 
শ্বাসনালী ও গলবিলের কারণ
টনসিলে প্রদাহ
টনসিলের চারপাশে পুঁজ হওয়া
গলবিলের পেছনে ও চারপাশে পুঁজ হওয়া
ফ্যারিংসের ক্যান্সার (টনসিল ও জিহ্বার গোড়াসহ)
শ্বাসনালীতে পানি জমা
ল্যারিংস ও ক্যান্সার
ফ্যারিংসে অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু আটকে যাওয়া যেমন : মাছের কাঁটা
অন্যান্য রোগ; যেমন : টিবি, ফাংগাল ইনফেকশন, সিফিলিস, এইডস্
মুখের তালু ও ফ্যারিংসের দুর্বলতা (অবশ) হলে, নিউরোজেনিক
ভিনসেন্ট এনজিনা
 
সমস্যার স্থান : রোগী সমস্যার স্থান নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে। যেমন- এটা ক্ষতের স্থানের ওপর নির্ভর করে।
 
লক্ষণসমূহ তীব্রতা : অল্প পরিমাণ পানি বা পানীয় রোগী গিলতে পারে। তরল, কঠিন বা উভয় জিনিসে অসুবিধা হয় এবং ওজন কমে যায়।
 
লক্ষণের শুরু ও স্থায়ীকাল : হঠাৎ বা তীব্র হতে পারে, ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, প্রথমে কঠিন খাবার পরে তরল খাদ্যে সমস্যা দেখা দেয়।
 
অন্যান্য লক্ষণ : ব্যথা, কাশি, গলার স্বর বদলে যাওয়া, দুঃশ্চিন্তা করা।
 
বয়স : নবজাতক, শিশু, যুবক, বয়স্ক যে কোনো বয়সে হতে পারে।
 
পরীক্ষা
মুখগহ্বর, জিহ্বা, নখ পরীক্ষা করে দেখতে হবে- মুখের কোণায় প্রদাহ, জিহ্বার প্রদাহ আছে কিনা দেখতে হবে।
 
গলা পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনো গ্ল্যান্ড বা টিউমার আছে কিনা বা থাইরয়েড ফুলে গেছে কিনা।
 
রোগীকে পানি খেতে দিতে হবে এবং তার ঢোক কতটুকু গিলতে পারে তা খেয়াল করতে হবে।
 
গলবিল ও শ্বাসনালী পরীক্ষা করে ভোকাল কর্ড এ দুর্বলতা, জিহ্বার গোড়ায়, হাইপো-ফ্যারিংসে কোনো কিছু বড় হয়েছে কিনা তা দেখতে হবে।
 
এপিগ্যাস্ট্রিক টেনডারনেস বড় হয়েছে কিনা তা পেটে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
 
রোগীর পানিশূণ্যতা বা ডিহাইড্রেশন আছে কিনা দেখতে হবে। রোগীর ওজন দেখতে হবে।
 
ল্যাব পরীক্ষাসমূহ
রক্ত-হিমোগ্লোবিন এবং রুটিন টেস্টসমূহ, সিরাম আয়রন, টোটাল আয়রন বাইন্ডিং ক্যাপাসিটি, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট, সিরাম ইলেক্ট্রলাইটিস।
খাদ্যনালীর বেরিয়াম এক্স-রে, ডিসপেজিয়া ও অন্ননালীর রোগ নির্ণয়ের জন্য এক আদর্শ পরীক্ষা।
 
এন্ডোসকপি বা রিজিড ইসোফেগোস্কপি করতে হবে। আরো অন্যান্য পরীক্ষা করতে হবে, যেমন : ফাইবার অপটিক ল্যারিংগোসকপি, বায়োপসি, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই।