চরম পানি সংকটে সীতাকুণ্ডের শিল্প এলাকা। দীর্ঘদিন যাবত্ চট্টগ্রামের বৃহত্ এই শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে পানির সংকট বিরাজ করছে। জলাধারে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও গভীর নলকূপের পানি দিয়ে শিল্প কারখানার উত্পাদন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তারা পানি সংকট নিরসনের জন্য ওয়াসাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশের দু’পাশে রয়েছে কয়েকশ ভারী শিল্প কারখানা। এসব কারখানায় প্রতিদিন কয়েক কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকে। প্রতিনিয়ত নতুন করে শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে এই শিল্প এলাকায়।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সীতাকুণ্ড শিল্প এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একে এম ফজলুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন,‘ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সীতাকুণ্ড এলাকায় পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণের জন্য মতামত চেয়েছেন। এখানে কি পরিমাণ শিল্প কারখানা রয়েছে, কি পরিমাণ পানি চাহিদা ও পাইপ লাইন কতটুকু স্থাপন করতে হবে সবকিছুই যাচাই করতে হবে। তাই আমরা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো.দিদারুল আলম ইত্তেফাককে বলেন,‘ প্রকল্পের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রস্তাব চেয়েছেন।
শিল্পে পানির সংকট প্রসঙ্গে কেএসআরএম এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের কারখানাগুলোতে দৈনিক ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টন পানির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দৈনিক ১৪/১৫ লক্ষ টনের বেশি পানি যোগান দেওয়া যাচ্ছে না। একটি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু জলাধারের পানি দিয়ে ২ মাসের বেশি চাহিদা মেটানো যায় না। নলকূপ থেকে বাকি সময়ে পানির চাহিদা মেটানো হয়।’ সীতাকুণ্ড এলাকায় আবুল খায়ের গ্রুপের ঢেউটিন ও রি-রোলিং মিল ফ্যাক্টরি রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৩৩১৩টি নলকূপের মধ্যে ৭৪৭টি অকেজো হয়ে গেছে। মহাসড়কের পূর্ব পাশে নলকূপ থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর সড়কের পশ্চিম পাশে নলকূপের পানিতে অতিমাত্রায় আয়রন রয়েছে।