বিশ্ব বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে আজ কেউ দরিদ্র দেশ হিসেবে অবহেলা করতে পারে না। কেউ করুণার চোখে দেখে না। বরং সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দশ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন আনতে পেরেছি। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গতকাল বৃহস্পতিবার কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) আয়োজিত রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণ পদক প্রদান ও কুমুদিনীর ৮৬তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই আমার যাত্রা শুরু। মা-বাবা-ভাই হারিয়ে একটাই পেয়েছিলাম তা হলো জনগণের ভালোবাসা। জনসেবা করার জন্যই কাজ করছি। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্যমুক্ত একটা সমাজ উপহার দেবার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সোনার বাংলা গড়তে আমার বাবা সারাটা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁর অসমাপ্ত কাজের একটুও যদি করতে পারি তাহলে মনে করবো সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার মতো মানবসেবায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শহীদ দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা (রায় বাহাদুর) ছিলেন পরম বন্ধু। তারা দেশে ও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন।

কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক প্রতিভা মুত্সুদ্দির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা, রণদা প্রসাদ সাহার পুত্রবধূ ও ট্রাস্টের পরিচালক শ্রীমতি সাহা। অনুষ্ঠানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), শিল্পী সাহাবুদ্দিন এবং নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহেনা এবং কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন তার নাতনী খিলখিল কাজী।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ভোলা, মো. একাব্বর হোসেন এসপি, মো. আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জহের এমপি, মো. আতাউর রহমান খান এমপি, মো. তানবীর হাসান ছোট মনির এমপি, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সঞ্চিত কুমার রায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র মো. জামিলুর রহমান মিরন, মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত্ হোসেন সুমন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ভারতেশ্বরী হোমস মাল্টিপারপাস হল এবং ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট নার্সিং কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর করেন। একই সময় তিনি টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় ১০৭ কি.মি. জেলা ও আন্তঃজেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য গৃহীত ৩টি প্রকল্প, কালিহাতি উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, দেলদুয়ার বাতেন বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর, করাতিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল সদর, সখীপুর, মধুপুর এবং মির্জাপুর উপজেলার ৪টি ভূমি অফিস, ঘাটাইল উপজেলার ২টি ভূমি অফিস, টাঙ্গাইল জেলা সদর ও উপজেলা সদর ও বাসাইল উপজেলার ৩টি মডেল মসজিদ ও টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজের ৬ তলা নতুন ভবন নির্মাণসহ ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া কালিহাতি উপজেলায় নির্মিত ৯ কি.মি. রাস্তা, সখীপুর ও মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, টাঙ্গাইল-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মির্জাপুর উপজেলায় নবনির্মিত ধেরুয়া রেলওয়ে ওভারপাস, টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ২টি বিদ্যুত্ বিতরণ উপকেন্দ্র, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু ভিআইপি অডিটোরিয়াম, মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, মির্জাপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রসহ ১২টি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন। এছাড়া বাসাইল, দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।