গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো সব সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম। তিনি বলেন, অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করে জনগণকে আতঙ্কিত করা উচিত নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার গ্যাসের মূল্যহার পরিবর্তন নিয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর শুনানির শেষ দিনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মনোয়ার ইসলাম বলেন, ২০০৯ সালে কোম্পানিগুলো খাত ভেদে গ্যাসের দাম গড়ে ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। কিন্তু কোম্পানির আয় ও ব্যয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে কমিশন ৯ দশমিক ২ শতাংশ দাম বাড়ায়। এরপর ২০১৫ সালে প্রস্তাব করা হয় ৪০ দশমিক ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধির । কিন্তু বৃদ্ধি করা হয় ২৬ শতাংশ। এছাড়া ২০১৭ সালে ৯৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হলেও দাম বাড়ে মাত্র ১১ শতাংশ। এভাবে অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করে জনগণকে আতঙ্কিত করা উচিত নয়।
দেশের শিল্প কারখানায় জ্বালানি চাহিদা পূরণে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করছে সরকার। আগামী এপ্রিলে আরো ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হবে। আমদানিকৃত প্রতি ঘনমিটার এলএনজির ব্যয় ৩৮ টাকা ৮৯ পয়সা। যদিও বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস গড়ে ৭ টাকা ৯২ পয়সায় বিক্রি হয়। ঘাটতি ৩০ থেকে ৩১ টাকা মেটানোর জন্য শ্রেণিভেদে সব ধরনের গ্যাসের দাম গড়ে ১০২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে বিতরণ কোম্পানী।
তবে বিইআরসি’র কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে আমদানিকৃত এলএনজি গ্যাস এবং দেশীয় কূপ থেকে উত্পাদিত গ্যাসের গড় মূল্য ১২ টাকা ৪৩ পয়সা তথা ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে নিজেদের বিতরণ মার্জিন বিষয়ে প্রস্তাব করা হলেও ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান মার্জিন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা দেখাতে পারেনি। কমিশনের মূল্যায়ন কমিটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ রাজস্ব দরকার, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তার চেয়ে বেশি আয় করছে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের মার্জিন বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই। শুনানির শেষ দিনে শুরুতে কর্ণফুলি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এবং দুপুরের পর পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাবের উপর আলোচনা হয়।
এছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব জহির রায়হান, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর।