পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসিরের হত্যাকারীর জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছেন। ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননা আইনের সমালোচনা করায় ২০১১ সালে নিজ দেহরক্ষী মুমতাজ কাদরির গুলিতে নিহত হয়েছিলেন তাসির। সোমবার মুমতাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মঙ্গলবার অন্তত ১০ হাজার পাকিস্তানি মুমতাজ কাদিরের জানাজায় অংশ নেন। এছাড়াও ফাঁসি কার্যকরের প্রাক্কালে রাজধানী ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন যায়গায় সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। তার জানাজাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা নেয়া হয়েছিল দেশজুড়ে।
পুলিশ রাওয়ালপিন্ডির লিয়াকত বাগ পার্কে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিলেও হাজারো মানুষ পায়ে হেঁটেই মুমতাজ কাদিরের জানাজায় হাজির হন। তারা মুমতাজের লাশের ওপর ফুল ছিটিয়ে শোক প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের মৌলবাদীরা তাসিরকে ধর্মাবমাননাকারী ও তার হত্যাকারীকে ইসলামের বীর হিসেবে মনে করেন।
ঘাতক মুমতাজ পাকিস্তান পুলিশের অভিজাত কমান্ডো বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ব্লাসফেমি আইনের সমালোচনা করার পর ২০১১ সালে ইসলামাবাদের একটি মার্কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে তাসিরকে গুলি করেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ধর্মীয় দায়িত্ব’ বলে দাবি করেছিলেন তিনি। এমনকি ঘাতকের সমর্থনে মিছিল করা হয়েছিল তখন।
কট্টর পাকিস্তানিদের কাছে ‘ধর্মাবমাননা’ খুবই স্পর্শকাতর ইস্যু। দেশটিতে প্রায়ই ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এই আইনের অপব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর শিকার হন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সূত্র: বিবিসি