আমিরাতে ভিসা বন্ধ থাকায় বিপাকে প্রবাসী ব্যবসায়ীরা


সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রম বাজার। এদেশে প্রায় সাড়ে তিনবছর (১২ই আগষ্ট’২০১২হতে) ধরে বাংলাদেশীদের নতুন ভিসা বন্ধ ও ভিসা পরিবর্তন না হওয়ায় বিপাকে আছেন প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী নতুন ভিসা চালু বা পাওয়ায় আশায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে মাসের পর মাস অলস ভাড়া দিয়ে মোটা অংকের লোকসান দিচ্ছেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী দুধের স্বাদ পান্তাতে মিটাতে পাকিস্তান, ভারত ও নেপাল থেকে শ্রমিক নিয়ে কাংখিত সুফল পাচ্ছেন না। সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স থেকে।
সম্প্রতি আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত  ডা: মোহাম্মদ ইমরান বিভিন্ন অনুষ্টানে বলেছেন, আমিরাতে ভিসা খোলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘোষণায় প্রবাসীদের মনে আশার আলো জাগলেও অনেকেই আছেন নানা দ্বিধাদ্বন্দে, দিন কাটাচ্ছেন নানা শংকায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোবাইল ও ইলেক্টিনিক্স ব্যবসায় সিংহভাগ দখল করে আছেন বাংলাদেশীরা। আমিরাতে বাংলাদেশীদের ভিসা বন্ধ থাকায় ধীরে ধীরে এসব ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে অন্য দেশীরা। আমিরাতের মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ে সফল ব্যবসায়ী বৃহত্তর চট্রগ্রামের অধিবাসী মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম বলেন, ভিসা বন্ধ থাকাতে ব্যবসায়ে কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল ব্যবসায় অন্যতম সফল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল আলম জানান, ভিসা বন্ধ থাকায় ব্যবসায় সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। দু বছর আগে নেয়া দোকান বন্ধ রেখে ভাড়া চালাতে হচ্ছে। কর্মচারীর অভাবে ঠিক মত ব্যবসা চালানো যাচ্ছে না। এমন কি ঠিকমত দেশেও যেতে পারছি না।

মোহামমদ আবু সৈয়দ ইলেকট্রনিকস ও মোবাইল ব্যবসায়ী। বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্টানের মালিক। ভিসা বন্ধ থাকায় ভিন্ন দেশী সেলসম্যান ও কর্মচারী নিয়ে লোকাসানে পড়েছেন দীর্ঘ দিন ধরে।
 
সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার চৌধুরী একজন সফল ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন থেকে আমিরাতে নানা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ বছরের জানুয়ারিতে ভিসা চালু হতে পারে এমন আশায় মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করে আবুধাবীর মোচ্ছাফ্ফায় নতুন কার পলিশ ও সার্ভিস ষ্টেশন চালু করে বেকায়দায় পড়েছেন।
এ ধরনের শত শত প্রবাসী ব্যবসায়ী আমিরাতে ভিসা বন্ধ থাকাতে মোটা অংকের লোকসান দিচ্ছেন এবং নানা ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।

বাংলাদেশী শ্রমিকের ভিসা না থাকায় যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ জন লোকের প্রয়োজন সেখানে আছে মাত্র ৩/৪ জন। তাতে করে একদিকে সরকার হারাচ্ছে রেমিটেন্স অন্যদিকে দিন দিন কমে আসছে আমিরাতে বাংলাদেশী শ্রমিকের সংখ্যা। ভিন দেশী শ্রমিকের ভাষা ও নানা সমস্যার কারণে তাদের নিয়ে কাজ করে তৃপ্তি পাচ্ছেন না দেশীয় শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। আবার ভিনদেশী শ্রমিকরা মনে প্রাণে দেশীয় মালিকের কল্যাণে কাজ করে না।

উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের আরব আমিরাত সফরের মাধ্যমে এখানে বাংলাদেশীদের বন্ধ ভিসা চালু করবেন এমন টাই প্রত্যাশা সকলের।