যথাসময়ে দরকার গ্লকোমার চিকিত্সা

গ্লকোমা রোগে হারানো দৃষ্টি পুনরায় ফিরে আসে না। ফলে সময়মতো গ্লকোমার চিকিত্সা করা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো গ্লকোমা সনাক্ত হলে অন্ধত্ব সহজে প্রতিরোধ করা যায় এবং চিকিত্সায় ভাল থাকা যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ আই কেয়ার সোসাইটির সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে ২৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ গ্লকোমা রোগে ভুগছে এবং প্রায় ৭ লাখ মানুষের অন্ধত্বের কারণ এই গ্লকোমা। চল্লিশ বছরে উপরে শতকরা ৩ জন গ্লকোমা রোগে আক্রান্ত। সারা পৃথিবীতে অন্ধত্বের দ্বিতীয় প্রধান কারণ গ্লকোমা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখের উচ্চ রক্তচাপের জন্য যদি চোখের অপটিক নার্ভ বা স্নায়ূ ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন তাকে বলে গ্লকোমা। গ্লকোমা যে কোন বয়সেই হতে পারে। তবে ৪০ বছরের পরে যে কোন চোখের রোগীর গ্লকোমা পরীক্ষা করা জরুরি। চিকিত্সক ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ১০ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত পালিত হচ্ছে বিশ্ব গ্লকোমা সপ্তাহ। এই সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতাল গতকাল বিশ্ব গ্লকোমা দিবস পালন করে। এ বছর গ্লকোমা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘আপনার চোখের গ্লকোমা পরীক্ষা করুন, দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করুন’।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের গ্লকোমা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইফতেখার মো. মুনির ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব গ্লকোমা। তবে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ছানি বিষয়ে মানুষ অনেক কিছু জানলেও গ্লকোমা সম্বন্ধে এখনো মানুষের তেমন ধারণা নেই বা মানুষ সচেতন নয়। তিনি বলেন, গ্লকোমায় হারানো দৃষ্টি ফিরে আসে না। কিন্তু ছানিতে দৃষ্টি হারালেও অপারেশনের পর পুনরায় দৃষ্টি ফিরে পাওয়া সম্ভব। এ জন্যে আমরা গ্লকোমা সপ্তাহ উপলক্ষে বলছি, আপনারা আসেন, চোখের প্রেসার মাপান, চোখের ভেতরটা পরীক্ষা করান, তাতে জানা যাবে আপনার চোখে গ্লকোমার কোন লক্ষণ আছে কি-না।

এই রোগের ঝুিঁকতে আছেন ৪০ বছর বয়সের ওপরের যে কোন ব্যক্তি। যাদের চোখের প্রেসার পরীক্ষা করা জরুরি। এছাড়া পরিবারে রক্তের সম্পর্কের মধ্যে কারো এই রোগ থাকলে, তারাও ঝুিঁকতে আছেন। চোখে আঘাত পেলে চোখের প্রেসার বেড়ে যেতে পারে, অথবা হাইমায়োপিক বা প্লাস পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করেন যারা তারাও গ্লকোমার ঝুঁকিতে আছেন। যে কারণে চশমা যারা ব্যবহার করেন, তারা চিকিত্সকের কাছে গেলে অবশ্যই মনে করে চোখের প্রেসার পরীক্ষা করে নেবেন বলে জানান ডা. মুনির।

গ্লকোমা মুলত চার ধরনের। ওপেন এঙ্গেল গ্লকোমা, নিয়ার এঙ্গেল গ্লকোমা, সেকেন্ডারি গ্লকোমা ও কনজেনিটাল গ্লকোমা বা শিশু গ্লকোমা। ওপেন এঙ্গেল গ্লকোমার তেমন কোন লক্ষণ থাকে না। তবে চিকিত্সক দেখলে বুঝতে পারেন, তার গ্লকোমা আছে। নিয়ার এঙ্গেল গ্লকোমাতে চোখে প্রচন্ড ব্যথা হয়, যে কারণে রোগী দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। এছাড়া অনেক দিন ধরে ছানি আছে কিন্তু অপারেশন করায়নি, অনেকদিন ধরে স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করেন এমন রোগীদের সেকেন্ডারি গ্লকোমা হতে পারে। চোখে  আঘাত পেলেও এমনটা হতে পারে। আর কনজেনিটাল গ্লকোমা হচ্ছে শিশু তার মায়ের পেট থেকেই গ্লকোমা রোগ নিয়ে জন্মায়।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, গ্লকোমা সপ্তাহের উদ্দেশ্য হচ্ছে, জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। তারা যেন ৪০ বছরের পরে সবাই গ্লকোমা আছে কি-না তা স্ক্রিনিং করান। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে গ্লকোমা বিভাগ আছে। ডাক্তারদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো দরকার। চোখের সমস্যা নিয়ে কোন রোগী ডাক্তারের কাছে গেলেই রুটিনমাফিক চোখের প্রেসার মাপতে হবে। তার অপটিক ডিক্সে কোন গ্লকোমার সাইন আছে কি-না তা দেখতে হবে। কারণ রোগী এসে বলবে না তার গ্লকোমা আছে।