পাখিকে আঘাত করায় জেল জরিমানা

যুক্তরাজ্যে একটি পাখিকে আঘাত করায় আদালত এক ব্যক্তিকে লাখ টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ড দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে উত্তর সমারসেট এলাকার সমুদ্র সৈকতে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ল্যাভিলিন। গত বুধবার আদালত তাকে আটশ ৩৫ পাউন্ড জরিমানাসহ ১২ সপ্তাহের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

পশু-পাখিদের অধিকার ও কল্যাণ সংরক্ষণকারী সংস্থা রয়েল সোসাইটি ফর দি প্রিভেনশন অব ক্রুয়েল্টি টু এনিমলসের (আরএসপিসিএ) এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, ৬৪ বছর বয়সী ল্যাভিলিন সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে পটেটো চিপস খাচ্ছিলেন। এ সময়ে সিগালটি উড়ে এসে তার হাত থেকে চিপস কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পাখিটিকে আঘাত করেন। তার আঘাতে পাখিটি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। একটি শিশু আহত পাখিটিকে পশুচিকিত্সকের কাছে নিয়ে যায়। চিকিত্সকের কাছে এই নির্দয় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সে জানায়— আমি এটা দেখে খুব মর্মাহত হয়েছি। চিকিত্সক এই ঘটনাটি আরএসপিসিএকে জানালে তারা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আদালতে ল্যাভিলিন তার অপরাধকে অস্বীকার করেন। কিন্তু আদালত প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে দোষী করে। পাখিটির সঙ্গে নির্দয় আচরণের জন্য  তাকে অর্থদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে আদালত ১২ সপ্তাহ তাকে নিজ ঘরে সন্ধ্যা ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বন্দি থাকার নির্দেশ দেয়।

আদালতে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি ওই পাখি আঘাতকারীকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। তাকে বলেছিলাম,  আপনি কেন আমার শিশুর সামনে এমন নির্দয় আচরণ করলেন? এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এটাতো একটা পাখি। এমন কী হয়েছে? বরং আপনার সন্তানকে পশু-পাখি সম্পর্কে শেখানো উচিত।

অবশ্য এতো কিছুর পরেও পাখিটি মারা গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, ১৮২৪ সালে আরএসপিসিএ সংস্থা গঠন করেন  উইলিয়াম রিচার্ড মার্টিন। তিনি ইংল্যান্ডে ক্রীতদাস প্রথা উচ্ছেদেও জোরালো ভূমিকা পালন করেন।